নিদর্শন

চর্যাপদ

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নির্ভরযোগ্য সাহিত্যিক নিদর্শন চর্যাপদ। ১৯০৭ সালে চর্যাপদ আবিষ্কারের পর থেকে অনেক পণ্ডিত এ বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। চর্যাপদের আবিষ্কর্তা হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর নাম এক্ষেত্রে সর্বাগ্রে স্মরণীয়। বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের রচনা হিসেবে চর্যাপদের মধ্যে ধর্মীয় অনুভূতি প্রকাশ পেলেও এর সাহিত্যিক মূল্য অবশ্যস্বীকার্য। চর্যাকারেরা দার্শনিক পরিভাষা ও তন্ত্রের বিশেষ শব্দের সাহায্যে তত্ত্বদর্শনকে প্রকাশ করতে গিয়ে নানা চিত্রকল্পের প্রয়োগ করেছেন। এসব চিত্র প্রতীক অর্থ প্রকাশ করলেও তাতে শিল্পমর্যাদা বিদ্যমান। চর্যাপদে সমকালীন দরিদ্র বাঙালির নিত্য অভাব, ক্ষুধা, বেদনা, আক্ষেপ-পীড়িত জীবনের বাস্তব করুণ চিত্রও ফুটে উঠেছে। একটি চর্যার অংশবিশেষ উল্লেখ করা হলো:

 

‘টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।

হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেসী

বেঙ্গ সংসার বডিহল জাঅ।

দুহিল দুধু কি বেন্টে ষামায় ’

 

অর্থ : টিলায় আমার ঘর, প্রতিবেশী নেই। হাঁড়িতে ভাত নেই, নিত্যই ক্ষুধিত (অতিথি)। (অথচ আমার) ব্যাঙের সংসার বেড়েই চলেছে (ব্যাঙের যেমন অসংখ্য ব্যাঙাচি বা সন্তান, তেমনি আমার সন্তানের সংখ্যাও ক্রমবর্ধমান)। দোয়ানো দুধ আবার বাঁটে ঢুকে যাচ্ছে  (যে খাদ্য প্রায় প্রস্তুত, তাও নিরুদ্দেশ হয়ে যাচ্ছে)।

শরীফুল ইসলাম শরীফ