‘চেষ্টার মধ্য দিয়ে ভালো কাজ বের হয়’

শাফিন আহমেদ। ৪০ বছর ধরে এদেশের শ্রোতাদের মাতিয়ে রাখা ব্যান্ড ‘মাইলস’-এর ভোকালিস্ট ও বেজিস্ট তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ার পেরিয়ে নতুনদের সামনে নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েছেন এই ব্যান্ড তারকা। চালু করেছেন মিউজিক প্রোডাকশন ‘ডাবল বেজ’। সম্প্রতি এখান থেকে বেশ কয়েকটি গান প্রকাশ হয়েছে এবং সামনেও হবে। সাম্প্রতিক এই ব্যস্ততা নিয়ে বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন মোস্তাফিজ মিঠু

সম্প্রতি আপনার ‘ডাবল বেজ প্রোডাকশন’ থেকে তরুণদের বেশ কয়েকটি গান প্রকাশ হচ্ছে। এই প্রসঙ্গ নিয়ে শুরুতে জানতে চাই—

প্রায় এক বছর ধরে ‘ডাবল বেজ প্রোডাকশন’ নিয়ে কাজ করছি। নতুন ও মেধাবীদের প্লাটফর্ম দেওয়া আমার উদ্দেশ্য। কারণ অনেক তরুণ দারুণ কাজ করছেন মিউজিক নিয়ে। কিন্তু সুযোগের জন্য অনেকে সামনে আসতে পারছেন না। সেই জায়গাটা তৈরির চেষ্টা করছি। ক্যান্ডি রেকর্ডিং স্টুডিওতে তৈরি গানগুলো পাওয়া যাবে ডাবল বেজ প্রোডাকশনের ইউটিউব চ্যানেলে। এখন প্রকাশ পাওয়া গানগুলোর তালিকায় রয়েছে পল্লবী রয়ের ‘ভ্রমর কইও গিয়া’। গানটির সংগীত আয়োজন করেছি আমি। বেনজির জিলানির ‘সে আমায় ডুবায়’ কথা ও সুর করেছেন বেনাজির নিজেই। আমি সংগীতায়োজনের রয়েছি। এছাড়াও ৯টি গান নিয়ে ‘এলো মেলো’ শিরোনামে একটি অ্যালবাম প্রকাশ পাবে। গতমাসে প্রকাশ পেয়েছে আমার ছেলে অর্জির র্যাপ গান। সামনে আরো কয়েকটি গান প্রকাশ পাবে। সেগুলোর কাজ চলছে।

 

নতুনরা গানের ক্ষেত্রে প্রশংসা পেলেও নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে না তাদের। আপনি নতুন নিয়ে কাজ করছেন। তাদের মধ্যে সম্ভাবনা ও দায়িত্ববোধ কতটা দেখেন?

দায়িত্ববোধের তো বিষয় না এখানে। একজন শিল্পী স্বাধীনভাবে তার কাজ করেন। গান এখন আর মানুষ সংগ্রহ করে শোনে না। অনলাইনে গিয়ে গান শুনে বের হয়ে যায়। বইয়ের মত কেউ গান সংগ্রহ করে না। এতে করে শ্রোতাদের মাঝেও গানকে নিজের সংগ্রহে রাখার প্রবনতা নেই। এখন সামনে কী হবে সেটিতো এখুনি বলা যাচ্ছে না। কিন্তু চেষ্টা তো আমাদের থাকতে হবে। চেষ্টার মধ্য দিয়ে ভালো কাজ বের হয়।

 

এবার আপনার গানের ব্যস্ততা প্রসঙ্গে বলুন—

আমার বেশ কয়েকটি গান তৈরি হচ্ছে। সেগুলো সামনে প্রকাশ পাবে ‘ডাবল বেজ প্রোডাকশন’ থেকে। এই প্রোডাকশনের শুরুর দিকে ‘শুরু থেকে শুরু’ শিরোনামে আমার একটি গান প্রকাশ পেয়েছে। এখন আরো কয়েকটি কাজ করছি।

 

‘মাইলস’-এর প্রসঙ্গ দিয়ে শেষ করবো। ব্যান্ডের ব্যস্ততা কেমন চলছে এখন?

এখন তো সবকিছু বন্ধ। গত বছরটা আমাদের উল্লেখযোগ্য একটি সময় গেছে। আমাদের ৪০ বছরপূর্তি উপলক্ষে ওয়ার্ল্ড ট্যুরের পাশাপাশি দেশেও অনেকগুলো শো করেছি। এই বছরের শুরুটাও বেশ ভালো ছিল। নিয়মিত শো করছিলাম। কিন্তু মাঝে করোনার জন্য সবকিছু বন্ধ হয়ে গেলো। পুরো বিশ্বে এক অবস্থা। এই সময়টায় মিউজিশিয়ানরা সবচেয়ে খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। এখনো যাচ্ছে। সবার অপেক্ষা আবারো সবকিছু ঠিক হবার। ‘মাইলস’ও হয়তো আগামী বছর নতুন কিছু নিয়ে আবার হাজির হবে।