নেপাল ফুটবল দল আগেও বহুবার বাংলাদেশে খেলতে এসেছিল। যখনই তারা ঢাকায় আসেন তাদের মধ্যে বাড়তি আনন্দ থাকে। দুই দেশের ফুটবল সম্পর্কটা খুব গভীর। নেপালে ৯৯ কাঠমান্ডু সাফ গেমস ফুটবলে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দশরথের মাঠে। তার আগে ৯৩ সালে তখনকার ঢাকা স্টেডিয়ামের মাঠে সাফ গেমস ফুটবলে নেপাল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। নেপালীদের চোখে এখনকার ঢাকা আগের চেয়েও সুন্দর। শুধু মন খারাপ হয় ট্র্যাফিক জ্যাম দেখে। গতকাল দুপুরে কাঠমান্ডু হতে বিশেষ বিমানে ঢাকায় আসতে সময় লেগেছে সত্তুর মিনিট। আর হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের পথ পাড়িয়ে দিয়ে পল্টনে নেপাল ফুটবল দলের জন্য নির্ধারিত হোটেলে পৌঁছাতে দেড় ঘণ্টা। সপ্তাহের শেষ দিন বলে ট্র্যাফিক জ্যামটা একটু বেশিই হয়। সামনে পুলিশ পাহারায় এসি বাসে বিরক্ত লাগলেও নেপালের ফুটবলার বিশাল শ্রেষ্ঠা, বিক্রম লামা, ভারত খাওয়াজদের একটা অন্যরকম ভালো লাগাও ছিল। কারণ দুনিয়া জুড়ে মহামারি করোনার কারণে এই ফুটবলাররা ঘরে বন্দি ছিলেন। আট-নয় মাস পর ফুটবলাররা শুধু ঘর হতেই বের হননি, একেবারে দেশের সীমানা পেরিয়ে আরেক দেশে চলে এসেছেন। দম বন্ধ করার পরিস্থিতি হতে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিচ্ছেন কোচ বালগোপাল মহারজনের খেলোয়াড়রা। তাই জানালার পর্দা সরিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখার বাড়তি কৌতূহল চোখে পড়েছে।
দুপুরে নেপালের ফুটবলাররা যখন হোটেলে ততক্ষণে তিন মিনিট দূরত্ব পথে বাংলাদেশ ফুটবল দলের হোটেলে খবর পৌঁছে গেছে। ফুটবল দল সকালে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে অনুশীলন করার সময়ই জানত প্রতিপক্ষ নেপাল আসছে। ঢাকায় আসার খবরে বাংলার ফুটবলাররাও সতর্ক। কোচ জেমি ডে এখন যেন আরো বেশি উজ্জীবিত। প্রতিপক্ষ যখন সামনে চলে আসে তখন আর হেলাফেলা করার সুযোগ নেই। তপু বর্মণ, জামাল ভুঁইয়া, রায়হান হাসান, ইয়াসিন খান, সোহেল রানা, গোলকিপার আশরাফুল রানা, গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো, গোলকিপার শহিদুল আলম সোহেলরা বলের ওপর আরো কড়া নজর রাখলেন। নিজেকে সতর্ক রাখতে যতটুকু করা যায়।
আগামী ১৩ এবং ১৭ নভেম্বর নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশে ফিফা টায়ার-১ প্রীতি ম্যাচ দুটি অনুষ্ঠিত হবে। কেমন হচ্ছে প্রস্তুতি? সংবাদ মাধ্যমের প্রশ্নে বসুন্ধরা কিংসের ডিফেন্ডার ইয়াসিন বললেন, ‘সত্যকথা বলতে কি আমরা তো ছয়-সাত মাস পর মাঠে নামছি। কোনো ম্যাচও খেলিনি। অনুশীলন ম্যাচ খেলতে পারলে ভালো হতো। এখন অনেক কষ্ট হবে। ম্যাচ খেললে তখন বুঝা যাবে। আসলে একটা প্রস্তুতি ম্যাচ হলে ভালো হতো।’
দলের ইংলিশ কোচ জেমি ডের দুশ্চিন্তা আছে দলের ফিনিশিং নিয়ে। বহু ম্যাচে ভালো ভালো সুযোগ পেয়েও ফিনিশিংয়ের অভাবে জিততে পারেনি। জয়ের সম্ভাবনা থাকার পরও ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ। জেমি বললেন, ‘ঘরের মাঠে নেপালের বিপক্ষে সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।’