বুড়িমারীর জুয়েল হত্যা মামলা

দ্বিতীয় দফায় চার জনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর আরো দুই জন গ্রেফতার

উপজেলার বুড়িমারীতে রংপুরের আবু ইউনুছ মো. সহিদুন্নবী জুয়েলকে পিটিয়ে হত্যা ও মরদেহ পোড়ানোর ঘটনায় দায়েরকৃত তিন মামলার দ্বিতীয় ধাপে মসজিদের খাদেমসহ চার জনের প্রত্যেককে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন লালমনিরহাট আমলি আদালত-৩-এর বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফেরদৌসী বেগম। রিমান্ড আদেশপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—বুড়িমারী কেন্দ্রীয় মসজিদের খাদেম জোবেদ আলী, বুড়িমারীর নামাজিটারী এলাকার আনোয়ার হোসেন, কামারেরহাট গ্রামের মেহেদী হাসান রাজু ও উফারমারা এলাকার রবিউল ইসলাম ওরফে পিচ্চি রবিউল। এর আগে গত মঙ্গলবার প্রথম দফায় একই আদালত সর্বপ্রথম গ্রেফতারকৃত পাঁচ আসামি—বুড়িমারী এলাকার মাসুম আলী, আশরাফুল আলম, শফিকুল ইসলাম, বায়েজিদ বোস্তামী ও রফিকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। অন্যদিকে এ ঘটনায় বুধবার মধ্যরাতে আরো দুই জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন বুড়িমারী ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকার আলহাজ বলোমুদ্দিনের ছেলে আবু নাইম ও আমবাড়ী এলাকার মৃত সিদ্দিক আহম্মেদের ছেলে আব্দুল গনি। আটককৃতদের পুলিশ গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। এ পর্যন্ত আলোচিত এ ঘটনার তিন মামলায় মোট ২৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের  (ডিবি) ইনচার্জ ওমর ফারুক এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে জুয়েল হত্যার ঘটনায় লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির গতকাল বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও কমিটি আরো সময় নিয়েছে। তদন্ত টিমের প্রধান লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট টি এম এ মমিন বলেন, ‘আমাদের তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। কিছু কাজ বাকি থাকায় আরো চার কর্মদিবস সময় নেওয়া হয়েছে।’

জড়িতদের শাস্তি ও স্পেশাল

ট্রাইব্যুনালে বিচার দাবি

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর জানান, রংপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক গ্রন্থাগারিক আবু ইউসুফ মো. সহিদুন্নবী জুয়েলের হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গতকাল সকালে রংপুর শহরে শোক মিছিল বের হয়। পরে তারা রংপুর বিভাগীয় কমিশনার ও রেঞ্জ ডিআইজির নিকট স্মারকলিপি পেশ করেন। মিছিলে নিহত জুয়েলের বড় বোন ও স্ত্রী জেসমিন আখতার ছাড়াও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জুয়েলের মহল্লা শালবন এলাকার সব দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়।