ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, ২০১৬ সালে কার্যকর প্যারিস জলবায়ু পরিবর্তন চুক্তির চার বছর পূর্ণ হলেও জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমন কার্যক্রমের স্থান ও সময়ভিত্তিক কোনো অগ্রাধিকার নির্ধারিত না থাকার সুযোগে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে অনিয়ম-দুুর্নীতির উদ্দেশ্যে অর্থায়ন, প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের প্রবণতা বিদ্যমান। পরিবেশ সুরক্ষায় সাংবিধানিক অঙ্গীকার ও প্রশমনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতিকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে নবায়নযোগ্য উত্স হতে বিদ্যুত্ উত্পাদনে বিনিয়োগ না করে উলটো কয়লা ও এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্রে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অনুমিত অবদানে (এনডিসি) প্রতিশ্রুত ১৫ শতাংশ প্রশমন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক উত্স হতে তহবিল সংগ্রহে কোনো পথ-নকশা না থাকায় এবং কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে সরাসরি তহবিল সংগ্রহে জাতীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ কার্যকর অভিগম্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।
‘বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমন অর্থায়ন ও প্রকল্প বাস্তবায়নে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে টিআইবি। সংস্থাটি আরো জানায়, প্রশমন প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা, জনঅংশগ্রহণ ব্যবস্থা, স্থানীয়ভাবে প্রকল্পের চাহিদা এবং গুরুত্ব বিবেচনা না করে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রকল্পে অর্থায়ন, অনুমোদন এবং বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন নীতি নিয়মিত লঙ্ঘন করলেও অভিযুক্ত সংস্থাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়নি। এ পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমন কার্যক্রমকে অধিকতর ফলপ্রসূ করতে ১০ দফা সুপারিশ করেছে টিআইবি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপদেষ্টা-নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের এবং গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান। গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন মো. রাজু আহমদ মাসুম।