ধর্ষণ মামলায় ভিপি নুরের সহযোগী সোহাগ গ্রেফতারের পর রিমান্ডে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর করা ধর্ষণ মামলার আসামি নাজমুল হাসান সোহাগকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। ইসলামিক স্ট্যাডিজ বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করা সোহাগ ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগ করেছিলেন তারই বিভাগের স্নাতকোত্তরের ঐ ছাত্রী। বুধবার বিকালে পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার এলাকা থেকে সোহাগকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান।

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের ছেলে সোহাগকে গতকাল বৃহস্পতিবার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠালে ঢাকা মহানগর হাকিম কনক কুমার বড়ুয়া তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, সোহাগ এজাহারভুক্ত আসামি। ধর্ষণ ও তাতে সহযোগিতার অভিযোগ এনে গত ২১ সেপ্টেম্বর লালবাগ থানায় ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, নাজমুল হাসান  সোহাগ ও নুরুল হক নুরসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে একটা মামলা করেন ঐ ছাত্রী। পরদিন ধর্ষণ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চরিত্র হননের অভিযোগ এনে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আরেকটি মামলা করেন তিনি। এই মামলায়ও ঐ ছয় জনকে আসামি করা হয়, তবে প্রধান আসামি করা হয় সোহাগকে। মামলার অপর তিন আসামি হলেন—বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি নাজমুল হুদা ও কর্মী আব্দুল্লাহহিল বাকী।

ঐ ছাত্রীর অভিযোগ, একই বিভাগের শিক্ষার্থী এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের কর্মী হওয়ায় এই পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক হয়। সেই সম্পর্কের জের ধরে ৩ জানুয়ারি লালবাগের বাসায় নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন মামুন। তখন সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক সোহাগ তার পাশে দাঁড়ান। চিকিত্সায় সহায়তা করার পর মামুনকে খুঁজে পেতে সাহায্যের কথা বলে চাঁদপুরে নিয়ে ফেরার পথে সোহাগও লঞ্চের মধ্যে তাকে ধর্ষণ করেন। পরে ঘটনার প্রতিকার চেয়ে তিনি নুরসহ তাদের অপর সহকর্মীদের কাছে গেলে প্রথমে সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও পরে বাড়াবাড়ি করলে চরিত্রহননের ভয় দেখান বলে অভিযোগ করেন ছাত্রী।