জেমির ক্যাম্পে চোট আতঙ্ক

সোহেল সারোয়ার চঞ্চল

চোট আতঙ্ক ধরছে অনুশীলনরত বাংলাদেশ ফুটবল দলকে। বলা নেই কওয়া নেই। আবার ইনজুরি দেখা দিয়েছে। এবার ইনজুরিতে পড়লেন বসুন্ধরা কিংসের তারিক রায়হান কাজী। গতকালই তাকে ক্লাবে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখা গেল অনুশীলনে তারিক কাজী নেই। অনুশীলন শেষে দলের ইংলিশ কোচ জেমি ডে তার কোচিং স্টাফ নিয়ে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় প্রশ্নের জবাবে বললেন, ‘সে (তারিক কাজী) নেই। ইনজুরি হয়েছে। কুচকিতে লেগেছে।’ এখন কী হবে। কোচ বললেন, ‘কিছুই করার নেই। নেপালের বিপক্ষে খেলতে পারছেন না তারিক।’ পরবর্তিতে আর কী ডাকা হবে জানতে চাইলে কোচ বলেন ‘সেটা পরের ব্যাপার।’ কোচের এই মন্তব্য করার কারণ হচ্ছে আগামী ১৩ ও ১৭ নভেম্বর বাংলাদেশ নেপাল ফিফা প্রীতি ম্যাচ। সেই ম্যাচে ফিরতে পারছে না ফিনল্যান্ড প্রবাসী তারিক কাজী। এই দুই ম্যাচের পর আবার কবে কখন জাতীয় দল মাঠে নামবে তার কোনো ঠিক নেই। কোচ বললেন, ‘সামনে ক্লাব ফুটবল রয়েছে।’

তারিক রায়হান কাজী হোটেল ছাড়ার আগে মন খারাপ করে গিয়েছেন। বলছিলেন তার ভাগ্য খারাপ। কুচকিতে লেগেছে। কুচকির অংশে লেগেছে। আমি ফিরে যাচ্ছি। এ যাত্রায় জাতীয় দলে থাকা হলো না। তবে আগামীতে আমার জাতীয় দলে ফিরতে পারব বলে আমি বিশ্বাস করি।’

ভাগ্যের পরশ পাচ্ছেন না তারিক কাজী। ইউরোপে জন্ম নেওয়া এই তরুণ বাংলাদেশের এসেছিলেন লাল সবুজ পতাকা বুকে নিয়ে ফুটবলে পা রাখবেন। যখনই মাঠে নামছেন তখনই কোথায় যেন মানিয়ে নিতে পারছেন না এই ফুটবলার। জাতীয় দলে খেলার যোগ্যতা তার আছে সেটা মনে করেন বলেই কোচ জেমি ডে তাকে দলভুক্ত করেছে। তবে তারিক কাজীর পরিবর্তে এখন আর নতুন কোনো ফুটবলার ডাকা হবে না সেটি বুঝাই যায়। জনি, মতিন মিয়া, আব্দুল্লাহ বিদায় নিয়েছেন। দুই দিন আগে মামুনুল ইসলাম ছিটকে গেছেন। তার বাম হাতের কবজিতে আঘাত লেগেছে। তাকে বিশ্রাম দেওয়া হলেও মামুনুল কালও অনুশীলন মাঠে গিয়েছিলেন।

আসলে ফুটবলারদের এখনো বিপ টেস্ট চলছে। অনুশীলনের জন্য পুরো ফিট কি না, তা নিশ্চিত করতেই বিপ টেস্ট করা হচ্ছে। মামুনুলও বললেন, ‘আমি হাতের এই অবস্থায়ও বিপ টেস্ট দিয়েছি। ভালো হয়েছে।’

গুলিস্তান হতে ডাব বিক্রেতাকে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ভেতরে নিয়ে রাখা হয়েছে। অনুশীলন শেষে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফদের চাঙ্গা করতে ডাবের পানি খাওয়ানো হচ্ছে। কিন্তু চাঙ্গা ভাবটা মলিন হয়ে যাচ্ছে চোট আতঙ্কের কারণে।

জেমিকে বলা হয়েছিল ২৩ অক্টোবর ক্যাম্প ডাকা হয়েছে। চাপ নিতে না পেরে একটু একটু করে ইনজুরি বাড়ছে। অনুশীলনটা  আরো পনের দিন আগে ডাকা হলে খেলোয়াড়রা পনের দিন বেশি সময় পেতেন। ফিটনেস ঘাটতিও কমে যেতো। কোচের আগে দলের সিনিয়র প্লেয়ার মামুনুলও একমত, আরো আগে অনুশীলন শুরু করলে ফিটনেস ফেরাতে সময় বেশি পাওয়া যেতো। কোচ জেমি বললেন, ‘কী করে শুরু করবে? কোভিড ছিল বেশি।’