করোনাসংকটে প্রতিষ্ঠিত তারকারাও খুঁজছেন বিকল্প আয়ের পথ!

টেকনিশিয়ান মিউজিশিয়ানরা ঢাকা ছেড়ে পেশা বদলেছেন

তারকারা নিজেদের পরিচয় বদলেছেন অনেকেই। করোনাকালীন এই সংকট এখন একধরণের অনাস্থা তৈরি করেছে সবার ভেতরে। কারণ প্রথমপর্যায়ে সবাই ভেবেছিল, এটি সাময়িক একটি সংকট। এ থেকে সবাই আবারও আগের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে। কিন্তু তা হয়নি। হবার সম্ভাবনাও অনেক দূরের। তাই তারকাদের পেশাদারিত্বের জায়গাটিও ভীষণ নড়বড়ে হয়েছে।

সিনেমা, মিউজিক বা নাটকের তারকাদের ভেতরে এক ধরণের উত্কণ্ঠা কাজ করছে। এর ভেতরে নাট্যকর্মীরা ছিলেন দারুণ এক অবস্থানে। কারণ ডিজিটাল প্লাটফর্মে নির্মাতা কলাকুশলীদের নানান ফর্মেটের নাটক কিংবা ওয়েব সিরিজের ব্যবসা সফলতার হার ছিল ঈর্ষণীয়। কিন্তু করোনার এই দূর্যোগ তাদেরকেও থমকে দিয়েছে। এর ভেতরে নিউ নরমালে শুটিং করতে গিয়ে নাটকের দুই ব্যস্ততম হিরো তাহসান ও অপূর্ব দুজনই কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছেন। অপূর্ব এখন চিকিত্সাধীণ।

তাই এই অবস্থায় বাকিরাও নতুন কাজে যোগ দিতে ভয় পাচ্ছেন। যেমন তাহসান তার দুটি প্রডাকশনের কাজ খুব সাবধানে করলেও করোনা আক্রান্ত হন। পরবর্তীতে আরো কিছু কাজের কথা থাকলে তা পেছাতে হয়। এরপর অপূর্বর আক্রান্তের খবরে অনেকেই আরো সাবধানী হয়েছেন। তাই বড় বাজেটের নতুন নাটকের শুটিংয়ের ক্ষেত্রেও দেখা দিয়েছেন এই ‘সাবধানী সংকট’।

সিনেমা পাড়ার দূর্দশার খবর পুরনো হলেও এই করোনাসংকট যেন তাদের কাছে ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’। কারণ একাধিক চলচ্চিত্র তারকা গত প্রায় ২ থেকে ৩ বছর ধরে নানান ইভেন্ট ও স্টেজ শো নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। সেই অবস্থানে গত ১ বছর ধরে সমস্ত শো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা পড়েছেন আর্থিক ও পেশাদারিত্বের মহাসংকটে।

একাধিক তারকা নিজেদের ফেসবুক পেজে অনলাইনে শাড়ি বিক্রি করছেন। খুলেছেন বিভিন্ন নামের অনলাইন শপ। কেউ অনলাইন ফুড শপে কাজ করছেন। তবে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন টেকনিশিয়ান ও মিউজিশিয়ানরা। করোনা তাদের শুধু পেশাদারিত্বের জায়গাটাই ছিনিয়ে নেয়নি বরং ঢাকার আশ্রয়টুকু কেড়ে নিয়েছেন। বেশ ক’জন স্বনামধন্য নির্মাতাও ঢাকার ভাড়া বাসা ছেড়ে গ্রামে চলে গেছেন। সেখানে জীবিকা নির্বাহের জন্য দিয়েছেন মুদি দোকান। আর কয়েকজন নির্মাতা মারফত খবর অনুযায়ী প্রায় ১ হাজার টেকনিশিয়ান ঢাকা ছেড়ে চলে গেছেন জীবন সংগ্রামে ব্যর্থ হয়ে। মিউজিশিয়ানরা অনেকে ঢাকার কিছু চেইন ফুড শপে কুরিয়ার বাহকের কাজও করছেন। সঙ্গত কারণেই নাম প্রকাশ করছি না আমরা। কিন্তু এই তথ্যগুলো শতভাগ সত্য। সাময়িক সহযোগিতা বা ত্রান যেভাবেই বলি না কেন পেশাগত নিশ্চয়তা ছাড়া ইন্ডাষ্ট্রির এই সকল টেকনিশিয়ানদের কাজে ফেরানো আর সম্ভব নয়।

এরই মধ্যে গণমাধ্যমে ক’জন তারকার নতুন মডেলের গাড়ি কেনা ও তার ছবি ফেসবুকে ফলাও করে পোস্ট দেবার ঘটনাগুলো নিয়ে তাই অনেকেই ট্রল করেছেন। নতুনভাবে তাই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে কেমন হবে আগামী দিনের ইন্ডাষ্ট্রি। কারণ এমনিতেই গড়ে প্রত্যেক শুটিং ইউনিটের স্টাফ ক্রমশ কমে এসেছে।

যেখানে শাকিব খান, জয়া আহসান দুই সফল তারকাও নিজেদের পেশাগত জায়গায় খুব সংকট দেখছেন। কারণ আগামীতে সিনেমা হল পুরোদমে চালু হলেও সেখানে কতটা বাণিজ্যিক সফলতা পাওয়া যাবে তা অনিশ্চিত। আর ওটিটি প্লাটফর্মেও ক্ষেত্রে বিদেশী কোম্পানিগুলো এখন ভীষণ আমাদের দেশে ভীষণ জনপ্রিয়। সেখানে দেশে আজ অব্দি বড় আকারের কোনো ওটিটি প্লাটফর্ম তৈরি হলো না। আর সেগুলো চালু হলেও বাজার দৌড়ে কতটা সফল হবে, সেটিও জানে না অনেকেই। তাই সমাধান খুজতে হবে সম্মিলিতভাবে সাংগঠনিক প্রচেষ্টায়।