চার বছরেও শেষ হয়নি কুবির শেখ হাসিনা হলের নির্মাণ কাজ

কাজ শুরুর প্রায় চার বছর পেরিয়ে গেলেও সম্পন্ন হয়নি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ছাত্রীদের জন্য প্রস্তাবিত শেখ হাসিনা হলের নির্মাণ কাজ। ২০১৭ সালের মার্চে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও এখনও প্রকল্প বুঝিয়ে দেয়নি আব্দুর রাজ্জাক জেবিসিএ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রশাসনের সুষ্ঠু তদারকির অভাবকেই এজন্য দায়ী করছেন শিক্ষার্থীরা। এদিকে একমাত্র ছাত্রী হল নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হলের গণ রুমে থাকা শিক্ষার্থীরা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা করছেন। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের মার্চে টেন্ডার আহ্বান করে আবদুর রাজ্জাক জেবিসিএ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্পটির কাজ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রকল্পের সময়সীমা ১৮ মাস থাকলেও ৪৩ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও প্রকল্প বুঝে পায়নি প্রশাসন। এতো দিনে ভবনের তৃতীয় তলার ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হলেও বাকি রয়েছে পলেস্তরা, টাইলস, দরজা, চৌকাঠসহ অনেক কাজ। টেন্ডার বাতিল করে নতুন টেন্ডার আহ্বান করার কথা থাকলে এ নিয়ে প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ কিংবা সুষ্ঠু তদারকি ছিলনা। অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প তদারক জাহাঙ্গীর আলম কাজ বিলম্বিত হওয়ার জন্য উল্টো প্রশাসনের ওপরই দায় চাপাচ্ছেন।

এদিকে ১৮০ জনের আবাসন ক্ষমতা সম্পন্ন ছাত্রীদের একমাত্র ছাত্রী হল ফয়জুন্নেছা হলে থাকছেন প্রায় তিনশ জন ছাত্রী। আবাসন সুবিধা হতে বঞ্চিত  মোট ছাত্রীদের ৯০ শতাংশ। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশাসনের সুষ্ঠু তদারকির অভাব, অদক্ষ জনবল, আর স্বল্প পরিমাণ শ্রমিক দিয়ে কাজ করানোর কারণে প্রকল্পের অগ্রগতি হচ্ছে না। কিন্তু এই অনিয়মের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তর কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। যার ফলে ছাত্রীদের দীর্ঘদিনের আবাসন সমস্যা থেকেই যাচ্ছে।

ফয়জুন্নেছা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী নাঈমা নূন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মানসম্মত আবাসন থেকে বঞ্চিত। অনেকেই অনার্স-মাস্টার্স শেষ করছে হলের স্বাদ না পেয়েই। এছাড়া একই কক্ষে ৬-৮ জন থাকতে হয়। আবার একটি বেড দুজনকে শেয়ার করে থাকতে হচ্ছে। এজন্য শিক্ষা কার্যক্রম যেমন ব্যাহত হচ্ছে অপরদিকে থাকছে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা।  

ঠিকাদার জাহাঙ্গীর আলম সবকিছু স্বীকার করে বলেন, আমরা নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারিনি। কারণ হিসাবে তিনি বলেন, প্রকল্পের চারপাশে সীমানা প্রাচীর ছিল না, যা বাস্তবায়ন হতে সময় লাগছে। এছাড়াও জটিল নকশা এবং করোনার কারণে কাজের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে আগামী জানুয়ারির মধ্যে আমরা এ প্রকল্প প্রশাসনকে বুঝিয়ে দিতে পারব। তবে এর আগে গত বছরের নভেম্বরেও তিনি দুই-তিন মাসের ভেতর কাজ বুঝিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার ড. মো. আবু তাহের জানান, শেখ হাসিনা হলের কাজ নিয়ে ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বিভিন্ন মেয়াদে সময় বৃদ্ধি করলেও কাজের যথাযথ অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। এর মধ্যে আমরা প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানাও করেছি। তবে এখন আমাদের লক্ষ্য হলো যে কোনো উপায়ে কাজ বুঝে নেওয়া। তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আশা করি, আগামী দুই তিন মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে। 

ইত্তেফাক/এসি