শামীম হামিদ, চট্টগ্রাম অফিস
চট্টগ্রাম নগরীর অধিকাংশ সড়কেরই বেহাল দশা। সড়কগুলো ছোট-বড় খানাখন্দে ভরা। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, নগরীর প্রায় ১৫০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়কগুলো সাময়িকভাবে মেরামত করা হলেও বৃষ্টিতে ভেঙে আবারও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। বারিক বিল্ডিং থেকে সদরঘাট পর্যন্ত স্ট্র্যান্ড রোড এবং অলংকার মোড় থেকে বন্দরের নিমতলা পর্যন্ত পোর্ট কানেকটিং রোডের (পিসি রোড) অবস্থা ভয়াবহ রকমের খারাপ।
গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, স্ট্র্যান্ড রোডের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত। কাদা জমে আছে। এই সড়কে প্রায়ই ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন উলটে যায়। সিটি করপোরেশনের কর্মীরা ইট বিছিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সাময়িকভাবে মেরামত করছেন। তবে এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েক দিন ধরে নগরীতে প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি হয়েছে। এতে বিটুমিন উঠে গিয়ে রাস্তায় আবারও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
একই অবস্থা পিসি রোডেরও। বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে প্রতিদিন হাজারো ট্রাক এই রাস্তা দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাওয়া-আসা করে। ভারী যান চলাচলের কারণে সড়কটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ দুটি সড়ক ছাড়াও নগরীর সিমেন্ট ক্রসিং মোড়সংলগ্ন অংশে চলছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ। বারিক বিল্ডিং মোড় থেকে ফকিরহাট পর্যন্ত সড়কের বন্দরসংলগ্ন অংশে ওয়াসার রোড কাটিং শেষে এখন চলছে মেরামতের কাজ। আরাকান সড়কের বহদ্দারহাট মোড় থেকে বাস টার্মিনাল হয়ে চান্দগাঁও পর্যন্ত সড়কের একপাশ, অনন্যা আবাসিক এলাকার মূল সড়ক, ফিরিঙ্গিবাজার কাজী নজরুল ইসলাম সড়ক, জাকির হোসেন রোড, মুরাদপুর ও অক্সিজেন এলাকার সড়কও বেহাল। পাশাপাশি ষোলশহর দুই নম্বর গেট, কাপ্তাই রাস্তার মোড় এলাকার সড়ক খানাখন্দে ভরা। রাইফেল ক্লাব মোড় থেকে বোস ব্রাদার্স হয়ে আর নন্দনকানন সড়কটিও বিটুমিন উঠে ইট বের হয়ে আছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন ইত্তেফাককে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার মধ্যে স্ট্র্যান্ড রোড ও পিসি রোডের অবস্থা বেশি খারাপ। এর মধ্যে পিসি রোডের সংস্কার কাজ ৭০ ভাগ শেষ হয়েছে। বাকি কাজও জরুরি ভিত্তিতে শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্ট্র্যান্ড রোডের সংস্কার কাজ শেষ হবে তিনটি পর্যায়ে।
এ দুটি সড়ক ছাড়া বাকিগুলোর অবস্থা ভালো উল্লেখ করে সুজন বলেন, বিমানবন্দর সড়কে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ চলছে। শেষ না হওয়া পর্যন্ত কষ্ট সহ্য করতেই হবে। উন্নয়ন কাজের জন্য ধৈর্য ধারণ করতে হবে। এছাড়া কিছু রাস্তার কাজ বাকি আছে যেগুলো চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে চলমান জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতাধীন।