মৃত চিকিত্সকের স্বাক্ষরে ভুয়া রিপোর্ট, স্বাক্ষর দিত গাড়ির ড্রাইভারও
ইত্তেফাক রিপোর্ট
মৃত চিকিত্সকের নামে স্বাক্ষর দিয়ে মাসের পর মাস রোগীদের দেওয়া হতো ভুয়া রিপোর্ট। এমনকি চিকিত্সকের রিপোর্টে স্বাক্ষর দিত গাড়ির ড্রাইভার। গত পাঁচ বছর ধরে হাইপোথাইরয়েড সেন্টার ল্যাবে এমন ভয়ংকর প্রতারণার শিকার হন রোগীরা। ১০ বছর ধরে থাইরয়েড, হেপাটাইটিসের মতো পরীক্ষার ল্যাব পরিচালনা করা হলেও সেই সক্ষমতা তাদের ছিল না। রাজধানীর শ্যামলীতে হাইপোথাইরয়েড সেন্টার নামে ঐ ল্যাবে অভিযানে বেরিয়ে এসেছে অনিয়মের এ ভয়াবহ চিত্র।
গতকাল দুপুরে শ্যামলী স্কয়ারের বিপরীতে ২/১ নম্বর বাড়ির হাইপোথাইরয়েড সেন্টারে অভিযান চালান র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। অভিযানে সোহেল রানা ও রানা নামে ঐ প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মচারীকে দুই বছর করে কারাদণ্ড ও প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দিয়েছে র?্যাব। এর মালিক আবদুল বাকের পলাতক। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম।
র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, প্রতারণায় রিজেন্ট কিংবা জেকেজিকেও হার মানিয়েছে ল্যাবটি। এখানে থাইরয়েডের নানা পরীক্ষাসহ হেপাটাইটিস, ব্লাড কালচারসহ করা হতো নানা পরীক্ষা। রিপোর্ট দিতে ব্যবহার করত প্রখ্যাত চিকিত্সকের নাম। সর্বশেষ অধ্যাপক মনিরুজ্জামানের স্বাক্ষরে গত অক্টোবরে রিপোর্ট দেওয়া হলেও এই চিকিত্সক করোনায় প্রাণ হারান মে মাসের প্রথম সপ্তাহে। এছাড়া আরো মিলেছে ঐ চিকিত্সকের স্বাক্ষর করা অসংখ্য ভুয়া রিপোর্ট।
কর্মচারীরা বলছেন, দুই একটা টেস্ট করা হলেও বাকিগুলো দেওয়া হতো অনুমান করে। কিছু কিছু টেস্ট করা হতো। তবে সবগুলো করা হতো না। হাইপোথাইরয়েড সেন্টার দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কুরিয়ারে স্যাম্পল সংগ্রহ করে মেইলে রিপোর্ট দিত।
র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম জানান, ‘গত পাঁচ বছরে কোনো প্রফেসর যথাসম্ভব এখানে বসেইনি। তার মানে সবগুলো রিপোর্টই ভুয়া। তারা চিকিত্সকদের নামে অগ্রিম স্বাক্ষর নিয়ে রাখত। আজব ব্যাপার হলো, অন্য হাসপাতালে অভিযান চালানোর সময় দেখেছি চিকিত্সকের পরিবর্তে টেকনিশিয়ানরা স্বাক্ষর করত। কিন্তু এখানে গাড়ির ড্রাইভাররাও স্বাক্ষর করে দিচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠান হার মানিয়েছে রিজেন্ট কিংবা জেকেজিকেও। ১০ বছর ধরে ল্যাব পরিচালনা করছে হাইপোথাইরয়েড সেন্টার।