দারিদ্র্য নির্মূলে বহমুখী গ্রাম সমবায় সমিতি গড়তে হবে :প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ থেকে দারিদ্র্য নির্মূলে বহুমুখী গ্রাম সমবায় সমিতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘এটা যদি আমরা গড়ে তুলতে পারি, তাহলে বাংলাদেশে দারিদ্র্য থাকবে না। পুরোপুরি নির্মূল হবে।’

গতকাল শনিবার সকালে ৪৯তম জাতীয় সমবায় দিবস ২০২০ উদ্যাপন এবং জাতীয় সমবায় পুরস্কার ২০১৯ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত মূল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। সংবিধানে জাতির পিতা সমবায়ের কথা বলে গেছেন এবং তিনি বাধ্যতামূলক বহুমুখী সমবায়ের কথাও বলেছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা জানতেন ‘কীভাবে বাংলাদেশের উন্নতি হবে’। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকারের প্রচেষ্টায় সমবায় সমিতি ও সমবায়ীদের সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে এবং বর্তমানে সমিতির সংখ্যা ১ লাখ ৯০ হাজার ৫৩৪টি এবং এর সদস্য ১ কোটি ১৪ লাখ ৮৩ হাজার ৭৪৭ জনে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে সমবায়ের মোট সদস্যের মধ্যে মাত্র ২৩ শতাংশ নারী হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী সমবায় কার্যক্রমে মহিলাদের সম্পৃক্ততা আরো বাড়ানোর আহ্বান জানান।

সমবায়ীদের আন্তরিকতার সঙ্গে কর্তব্য পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা সমবায়ের সাথে জড়িত, আমি আপনাদের অনুরোধ করব, বড় লাভের আশা না করে আপনারা আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করবেন, যাতে এটা একটা বড় স্থায়ী, উত্পাদনমুখী ও লাভজনক প্রতিষ্ঠান হয়, যাতে প্রত্যেকেই লাভের অংশটা পায়।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রবৃদ্ধি প্রায় ৮ শতাংশের ওপরে অর্জন করেছিলাম। দারিদ্র্যের হার ৪০ থেকে ২০ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছি। মাথাপিছু আয় ২০৬৪ ডলারে উন্নীত করেছি। করোনা না দেখা দিলে হয়তো আরো ভালো করতে পারতাম।’

প্রধানমন্ত্রী তৃতীয় লিঙ্গের বাসিন্দাদের প্রসঙ্গে বলেন, মহান আল্লাহই তাদের এভাবে জন্ম দিয়েছেন। তাদের নিজেদের কোনো দায় নেই এখানে। কাজেই তারা কেন পরিবারের অংশ হিসেবে লেখাপড়া শিখে মানুষের মতো মানুষ হতে পারবে না এবং কাজ পাবে না? আর ভাসমান বেদে সম্প্রদায়কে মুন্সীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকার জায়গা দিয়ে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে দিচ্ছে। তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সমবায় সমিতি করে দেওয়ার মাধ্যমে জীবন-জীবিকায় নতুন করে উত্সাহ জোগানো হচ্ছে।

সমবায়ীদের জন্য জাতির পিতার গৃহীত পদক্ষেপ ও কর্মসূচি ’৭৫-এর পর আর বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নেওয়াকে প্রধানমন্ত্রী ‘জাতির জন্য দুর্ভাগ্য’ আখ্যায়িত করে বলেন, বরং সেগুলো একটি লুটপাটের জায়গায় চলে এসেছিল। ১৯৯৬ সালে পুনরায় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দারিদ্র্য বিমোচন থেকে শুরু করে মানুষকে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং কতগুলো সমবায়ভিত্তিক প্রকল্প পুনরায় চালু করে। শেখ হাসিনা আরো বলেন, তার সরকার ২০০৯ সালে ‘আমার বাড়ি, আমার খামার প্রকল্প’ গ্রহণ করে। বর্তমানে এ প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ২১ হাজার ১৪২টি সমবায় সমিতি গঠন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ৫৬ লাখ ৪১ হাজার পরিবার উপকৃত হয়েছে। আর ২০১৮ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ প্রতিশ্রুতির আলোকে সমবায়ভিত্তিক আদর্শ গ্রাম প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রাথমিকভাবে ১০টি গ্রামে ‘বঙ্গবন্ধুর গণমুখী সমবায় ভাবনার আলোকে’ ‘বঙ্গবন্ধু মডেল গ্রাম প্রতিষ্ঠার পাইলট প্রকল্প’ বাস্তবায়ন শুরু করেছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই প্রকল্প সফল করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘তাহলে এর ভিত্তিতে সব গ্রামকেই আমরা উন্নত করে দিতে পারব, যাতে গ্রামের মানুষ আরো উন্নত জীবন পায় এবং সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার ‘আশ্রয়ণ প্রকল্পের’ মাধ্যমে ছিন্নমূল মানুষকে গৃহ ও ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেছে। জুন ২০২০ পর্যন্ত ২ লাখ ৯৮ হাজার ২৪৯টি পরিবার পুনর্বাসিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে অনুষ্ঠানে এলজিআরডি ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এবং প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য বিজয়ীদের মধ্যে সমবায় পুরস্কার ২০১৯ বিতরণ করেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রেজাউল আহসান স্বাগত বক্তৃতা করেন। সমবায় অধিদপ্তর প্রকাশিত ‘সমবায়ের সাফল্যগাথা’ শীর্ষক একটি বইয়ের মোড়কও অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী উন্মোচন করেন।