চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
আব্দুল্লাহ আল মাছুম
কলকারখানার বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার দোহাই দিয়ে পরিবেশ রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। অথচ মুনাফায় একটু ছাড় দিয়ে পরিবেশবান্ধব প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব। ‘এই সংসদ, সকল প্রেক্ষাপটে প্রবৃদ্ধির পূর্বে পরিবেশ রক্ষা করবে’ বিষয়ের পক্ষে এমন যুক্তি তুলে ধরে জাতীয় আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়নের খেতাব জিতল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের একটি দল। তিন জনের এই বন্ধুর দলটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির হয়ে প্রতিযোগিতায় প্রতিনিধিত্ব করে। আর এই তিন বন্ধু হলেন অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী অর্জন ত্রিপুরা, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের জান্নাতুল নাঈম পৃথা ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের হাসিব খান। তারা সবাই ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়ে এখন তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির ‘সিইউডিএস এ’ নামে বন্ধুদের দলটি চূড়ান্ত পর্বে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং ক্লাবের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বিজয়ী হয়। চ্যাম্পিয়ন দল সেমিফাইনালে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং ক্লাবকে হারিয়ে চূড়ান্ত পর্বে বিতর্কের সুযোগ পায়। দেশের ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬টি দলকে পিছনে ফেলে এ বিজয় ছিনিয়ে নেয় বিতার্কিক বন্ধুরা।
বিজয়ী দলের বন্ধু অর্জন ত্রিপুরা চূড়ান্ত পর্বে সরকারি দলের মন্ত্রীর ভূমিকায় বিতর্ক করেন। তিনি ‘ডিবেটার অব দ্য ফাইনাল’ নির্বাচিত হয়েছেন। অর্জন ত্রিপুরা বলেন, ‘কলেজ থেকে হাসিবের সঙ্গে পরিচয়। পৃথার সঙ্গে পরিচয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে। হাসিবের সঙ্গে একই দলে এর আগেও বিতর্ক করেছি। পৃথার সঙ্গে এই প্রথম দলে ছিলাম। একে অপরকে সহযোগিতার মাধ্যমে টিম ওয়ার্ক করে তৈরি হয়েছি। করোনার কারণে আমাদের একসঙ্গে দেখা না হলেও পরামর্শ ও পড়াশোনায় ঘাটতি হয়নি। যার ফলে আমরা বিজয়ী হয়েছি।’ প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকায় বিতর্ক করেন জান্নাতুল নাঈম পৃথা।
পৃথা উচ্ছ্বাসের সঙ্গে বললেন, ‘আমাদের অনেক দিনের পরিচয়। প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার কয়েকদিন আগে ক্লাব জানায়, আমরা একই দলে প্রতিযোগিতায় লড়ব। আমাদের যোগাযোগ ভালো থাকায় চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছেছি। আমি নিয়মিত বিতার্কিক ছিলাম না। এটি আমার প্রথম চ্যাম্পিয়নশিপ পাওয়া। তাই অনেক বেশি খুশি।’ আরেক বন্ধু হাসিব খান বিতর্ক করেন সাংসদের ভূমিকায়। হাসিব প্রশংসা করলেন আয়োজকদের সময়নিষ্ঠার। আর বললেন, ‘প্রতিটি পর্বে আলাদা বিষয় থাকায় পড়া ও জানাশোনার সুযোগ হয়েছে।’
দলটি বন্ধুদের হওয়ায় বিতর্কে বাড়তি উচ্ছ্বাস ছিল, সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না। বিজয়ী বন্ধুদের প্রশংসা শুনা গেল আয়োজক ‘ডিবেটিং সোসাইটি অফ ইকোনমিকস’-এর সাধারণ সম্পাদক সাইমুম মৌসুমী বৃষ্টির কণ্ঠেও। বৃষ্টি বললেন, ‘প্রতিযোগিতায় দেশের সেরা দলগুলো অংশ নিয়েছে। এদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দলটি সেরাদের সেরা। বিচারক থেকে শুরু করে প্রতিযোগিতার মান অফলাইনের মতোই ছিল। চ্যাম্পিয়ন দলের সঙ্গে আয়োজনটিও সবার প্রশংসা পেয়েছে।’