নারী উদ্যোক্তা ফেরদৌসী আক্তার লাবণী

   মো. আব্দুল হাই

 

জগন্নাথপুরের মেয়ে ফেরদৌসী আক্তার লাবণী সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর লাভ করেছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি ‘স্টাইল ক্লসেট’ নামে অনলাইন ব্যবসা শুরু করেন। তবে এটি যতটাই না সহজ মনে হচ্ছে, শুরুটা ছিল তার জন্য ততটাই কঠিন। উদ্যোক্তা হওয়ার লড়াইয়ে শুরু থেকেই অনেক কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়েছে তাকে। পরিবারের আপত্তির পরও লাবণী নানান চড়াই-উতরাই পেরিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন। পাশাপাশি আরো অনেক নারীকে স্বাবলম্বী হতে কর্মসংস্থান তৈরি করছেন। এতে করে বেকারত্ব লাঘব হয়েছে অনেক কর্মহীন নারীর। মেধা ও দক্ষতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী হাস্যোজ্জ্বল ধর্মভীরু ফেরদৌসী আক্তার লাবণী ২০১৭ সালে প্রথম এই উদ্যোগ শুরু করেছিলেন।

‘স্টাইল ক্লসেটে’র স্বত্বাধিকারী লাবণী বলেন, আমার এই কর্মযজ্ঞে ‘অনেকেই সমালোচনা করেছেন, আবার অনেকেই চায়নি আমি উদ্যোক্তা হই। তাদের কথা হলো, অনার্স-মাস্টার্স করে এসব করা মানায় না। সরকারি চাকরি করতে হবে। কিন্তু আমি এসব সমালোচনা-নিন্দার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করিনি, গুরুত্ব দিয়েছি ব্যবসার প্রতি। পাশাপাশি ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা শুরু করি। নতুন নতুন পণ্য এনে বিক্রি শুরু করি। তিনি বলেন, নারী হিসেবে প্রথমে অনেকেই অনেক কটু কথা বলেছেন, অনেক পাইকারি বিক্রেতা আমার সঙ্গে কথা বলতে চাননি, সাহায্যও করতে চাননি। সব বাধা পেরিয়ে নিজ লক্ষ্যে অটুট থেকে আজ তার নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করেছেন লাভজনক ব্যবসায়। অনলাইন ব্যবসা যতটা সহজ মনে হয় আসলে ততটা সহজ ছিল না।

২০১৭ সালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনার পাশাপাশি এ অনলাইন ব্যবসা শুরু করেছিলেন। লাবণীর একটাই উদ্দেশ্য ছিল চাকরি পাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি নিজেই কিছু একটা করবেন। বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত করে নিজেকে স্বাবলম্বী করার ইচ্ছাকে কাজে লাগিয়ে অনলাইনে তিনি বিভিন্ন পণ্য নিয়ে ফেসবুকের মাধ্যমে ব্যাবসায়িক কার্যক্রম শুরু করেন। ধীরে ধীরে তার পরিসর দেশ ছাড়িয়ে প্রবাসে ছড়িয়ে পড়ে। প্রবাস থেকে বিভিন্ন গ্রাহক তার কাছ থেকে দেশীয় পণ্য কেনাকাটা করে আসছেন। 

লাবণী আরো জানান, এ ব্যবসায় অল্প পুঁজি নিয়ে শুরু করলেও অনেক ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে আজ তার ব্যবসার মূলধন বেড়ে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকায় পৌঁছে গেছে। প্রবাসে তিনি নিজ দেশীয় পণ্য সরবরাহ করে দেশের সুনাম অর্জনের পাশাপাশি অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে স্বল্প পরিসরে হলেও অবদান রাখছেন লাবণী।

লাবণীর ‘স্টাইল ক্লসেট’ এখন জামদানি, কাস্টমাইজ পণ্য, ব্লক, বাটিক, হাতের কাজের শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, চাদর, নকশি চাদর, সুতার কাজের ওয়ান পিসসহ নানা ধরনের পণ্য বিক্রি করছেন।