এম এ আলআমিন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শেষ হয়েছে। সব ঠিকঠাক মতো হলে আগামী ২০ জানুয়ারি জো বাইডেন আনুষ্ঠানিকভাবে হোয়াইট হাউজে প্রবেশ করবেন। সর্বশেষ নির্বাচনের তিন দিন পর যখন পরীক্ষার মোটামুটি নিশ্চিত তক্ষণও ট্রাম্প পরাজয় মেনে নেননি। জানা গেছে, মানসিক অশান্তি দূর করতে তিনি ফ্লোরিডার মার এ লাগোতে নিজের রিসোর্টে গলফ খেলতে চলে গেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্সির ইতিহাসের ট্রাম্প যুগের অবসান হতে যাচ্ছে তবে রাজনীতি থেকে ট্রাম্পিজমের বিদায় এখনই ঘটছে না। ট্রাম্প বলেছেন যে, আগামী নির্বাচনে তিনি ফের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমন নজির নেই যে নির্বাচনে হেরে যাওয়া কোনো প্রেসিডেন্ট ফের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন বা পুুনরায় নির্বাচনে দাঁড়ানের জন্য মনোনয়ন চেয়েছেন। ট্রাম্প যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন তিনি নিশ্চয়ই একথা বলার চেষ্টা করবেন যে, নির্বাচনে আসলে তিনিই জিতেছিলেন কিন্তু কৌশলে তাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ কথা ঠিক যে, গতবারের চেয়ে এবার তিনি বেশি ভোট পেয়েছেন। তবে বাইডেন পেয়েছেন তার চেয়েও অনেক বেশি।
বাইডেন ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে প্রেসিডেন্ট পদে জিতলেও কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে রিপাবলিকানরা। এ কারণে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলো পাস করিয়ে নিতে তাকে বেগ পেতে হতে পারে। পছন্দ মতো মন্ত্রিসভা গঠন বা জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদে কাউকে নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রেও বাগড়া দিতে পারে সিনেট। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট বাইডেনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের একটি বড় অংশ জুড়ে আছে পররাষ্ট্রনীতি। পররাষ্ট্র ইস্যুটি তার বিশেষ পছন্দের একটি জায়গা। ট্রাম্প যেভাবে আমেরিকা ফার্স্ট নীতির জোয়ারে তার দেশকে বৈশ্বিক মিত্রদের থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিলেন বাইডেন নিশ্চয়ই সে জায়গাটি মেরামত করতে চাইবেন। তবে বাস্তবতা হলো—যুক্তরাষ্ট্রে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই পররাষ্ট্রনীতির বা পূর্বসূরি সরকারের কর্মসূচির বড় কোনো পরিবর্তন হয় না। তবে ঐতিহ্যগত বা পুরোনো মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক ঝালিয়ে নেওয়ার কাজটি তিনি সম্ভবত অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে করবেন। এক্ষেত্রে প্রশ্ন আসতে আসতে পারে—যুক্তরাষ্ট্রটিক আবারও উচ্চাভিলাষী পররাষ্ট্রনীতির যুগে ফিরে যাবে। তাছাড়া পররাষ্ট্র ইস্যুতে খুব বেশি সময় দিলে অভ্যন্তরীণ নানা ইস্যু গুরুত্ব হারিয়ে ফেলতে পারে। যার মাশুল তাকে পরবর্তী সময়ের নির্বাচনে গুনতে হতে পারে। এর মধ্যে কর্মসংস্থান এবং করপোরেট কর প্রণোদনার মতো বিষয়গুলো রয়েছে। ট্রাম্প একলা চলোর যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রিপাবলিকান রাজনীতিকরা যদি সেই পথে হাঁটেন তবে আগামী দিনগুলোতে বাইডেনকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।