কুমিল্লায় হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনায় খোঁজ নিচ্ছে ভারত

কুমিল্লার মুরাদনগরে হিন্দুদের ওপর হামলা ও হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুরের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, তারা এই বিষয়ে বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে।

দিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানান, এই ঘটনাটির ব্যাপারে ঢাকায় আমাদের হাইকমিশন ও উপদূতাবাস বাংলাদেশের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে চলছে। তাদের কাছে বিষয়টি আমরা উত্থাপন করেছি।

অনুরাগ শ্রীবাস্তব আরো বলেন, আমাদের এটাও জানানো হয়েছে যে বাংলাদেশ সরকার কুমিল্লার ঐ ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। কীভাবে সেখানে সহিংসতার সূচনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো সেটা তদন্ত করে দেখছে। সেখানে যাতে এই ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না-ঘটতে পারে, সেটা ঠেকানোর জন্য পুলিশ ও প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।

এর আগে হিন্দু পরিবারের ওপর হামলার ঘটনা সামনে আসার পর ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস বিষয়টি নিয়ে ঢাকার সঙ্গে কথা বলতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল।

ভারতের প্রতিক্রিয়ার ব্যাপারে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানা নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। তবে এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই ঘটনা আসলে একটা দুর্ঘটনা, সেটা ঐ দেশেও হয়। কোনো সরকারই চায় না যে এগুলো হোক। আমাদের দেশ সম্প্রীতির দেশ। আমাদের দেশে সংখ্যালঘুরা যত সুখে আছে, অন্য অনেক দেশে সে অবস্থা নেই। এরকম একটা দুর্ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে আমরা তার বিচারের ব্যবস্থা করি, সেজন্য আমাদের কাছে তদবির করার দরকার নেই বা পরামর্শের দরকার নেই।

গত পহেলা নভেম্বর কুমিল্লার মুরাদনগরে ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার গুজব তুলে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ২৫০ জন মানুষের বিরুদ্ধে বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি মামলাও করা হয়েছে।