আপোষ যারা করে থাকেন, তারা অনেকেই উপায়হীন অবস্থায় পড়ে আপোষ করে থাকেন বলেই মনে করেন। তবে অনেক ক্ষেত্রেই হয়ত সবগুলো উপায় তিনি খুঁজেও দেখেননি। খুঁজে দেখলে হয়ত নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করতে হত না তাকে। এমন নানা ধরনের আপোষের মধ্যেও কিছু কিছু বিষয়ে কখনই আপোষ করা উচিত নয় বলেই মন্তব্য করেন ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞরা। এসব বিষয়ে আপোষ করলে সাময়িক কোনো উপকার হলেও শেষ পর্যন্ত গিয়ে পস্তাতে হয় বলেই ধারণা তাদের। এমন বিষয়গুলোর কথাই তুলে ধরা হলো এই লেখায়।
নিষ্ঠার সাথে আপোষ নয় :মানবজীবনের অন্যতম মূল একটি বৈশিষ্ট্য হলো নিষ্ঠা। জীবনে চলার পথে এটিই একজন ব্যক্তির অন্যতম মূল ধর্ম হিসেবে পরিগণিত হয়। নিজের চিন্তা-চেতনা, পরিবেশ, সংস্কৃতি—সবকিছু মিলিয়েই গড়ে ওঠে একজন ব্যক্তির নিষ্ঠা। ফলে একজন ব্যক্তির অন্যতম মূল পরিচায়কই হলো তার নিষ্ঠা। কর্মজীবনেই হোক আর ব্যক্তিজীবনেই হোক, নিষ্ঠাই একজন ব্যক্তিকে ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তোলে।
আত্মসম্মান বজায় থাক :নিষ্ঠার পাশাপাশি আত্মসম্মানও মানজীবনের একটি বড় অংশ। আত্মসম্মানহীন জীবনকে মানবজীবন হিসেবে গণ্য করে না কেউই। যার আত্মসম্মান নেই, সে কখনই অন্যকে সম্মান করতে পারে না। ফলে ঘরে-বাইরে কখনই কারও সাথে তার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে না। আর যার মানুষের সাথে সম্পর্ক থাকে না, তার জীবনে সাফল্য কীভাবে আসবে? অনেকেই লোভে পড়ে আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে অনেক কাজ করে থাকে। সাময়িকভাবে হয়ত লাভবানও হয় সে। কিন্তু আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে এই প্রাপ্তি কখনই স্থায়ী হয় না। শেষ পর্যন্ত হয়ত এই প্রাপ্তি তাকে অনেক বড় কোনো মূল্য দিয়ে পরিশোধ করতে হয়। তাই আত্মসম্মানও বজায় রাখতে যেকোনো পরিস্থিতিতে।
শারীরিক এবং মানসিক প্রশান্তি :যেকোনো কিছুর সাথেই শারীরিক এবং মানসিক প্রশান্তির গভীর যোগসূত্র রয়েছে। যে ব্যক্তি শারীরিকভাবে সুস্থ নয়, সে তার কর্মেও কখনও ভালো করতে পারবে না। আবার মানসিকভাবে প্রশান্ত না থাকলেও কাজে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এ কারণেই কর্মজীবনেও শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আপোষ করা যাবে না। অনেকেই অফিসের জন্য দিন-রাত একাকার করে কাজ করেন। এতে করে নিজের স্বাস্থ্যের ভগ্নদশা তৈরি হলেও তাতে নজর দেন না অনেকে। আবার অনেক সময় অফিসের অনেক কাজ নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে করতে হয়। এটিও আপনাকে মানসিকভাবে অশান্তিতে রাখতে পারে। এর কোনো পরিস্থিতিতেই আপনি আপনার কর্মদক্ষতার পরিপূর্ণ প্রকাশ করতে পারবেন না। তাছাড়া এসব করে কিছু সময়ের জন্য ভালো ফলাফল পেলেও এতে করে আপনার জীবনীশক্তি দ্রুত হ্রাস পেতে থাকবে, দীর্ঘমেয়াদে যা আপনার কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেবে। আপনার সৃজনশীলতায়ও ভাটা পড়বে। আর আপনি সুস্থ থাকলে তবেই নিজের যত্ন নিতে পারবেন, আপনার পরিবারের দায়িত্বগুলোও পালন করতে পারবেন। অন্যাথা হলে তা সম্ভব হবে না। কাজেই শারীরিক এবং মানসিক প্রশান্তির সাথে কর্মজীবনেও কোনো আপোষ নয়।
স্বকীয়তা ও আত্মবিশ্বাস:আপনার স্বকীয়তা এবং সৃজনশীলতাই জানিয়ে দেবে আপনি কে। কাজেই স্বকীয়তা এবং সৃজনশীলতার সাথে আপোষ করা চলবে না। আপনি জানেন, একটি কাজ আপনি খুব ভালো পারেন। আপনার মতো করে কাজটি করতে দিলে আপনার পরিপার্শ্বের সকলের চাইতে কাজটি আপনিই ভালো করতে পারবেন, এমন আত্মবিশ্বাস আপনার রয়েছে। এমন সময়ে যদি অন্য কেউ বলে যে আপনি কাজটি সঠিকভাবে করতে পারবেন না, সে কথায় কান দেবেন না। অন্যের কথার চাইতে নিজের মনের কথার দিকেই মনোযোগ দেবেন বেশি। অন্য অনেকেই আপনাকে বিভ্রান্ত করতে পারে। স্বকীয়তা আর নিজের উপর আত্মবিশ্বাসের সাথে আপোষ করলে ধীরে ধীরে আপনি পরিণত হবেন অন্যের কলের পুতুলে। তখন হাজার চেষ্টা করলেও নিজেকে আর ফিরে পাবেন না। তাই স্বকীয়তা বজায় রাখুন এবং আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়েই পথ চলুন।
দৃষ্টি থাকুক সামনে :আপনার কর্মজীবনে সাফল্য লাভের জন্য বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এমন কিছু করা উচিত নয়, যার জন্য পরবর্তী সময়ে আপনাকে অনুতাপ করতে হয়। সেটা করতে হলে কিন্তু আপনার অনেক অর্জনই শেষ পর্যন্ত আর উপভোগ্য থাকবে না, অনেক অর্জনই পরিণত হবে গলার কাঁটায়। তাই দায় থেকে যাবে, এমন বিষয়ে আপোষ করবেন না কখনই।