গুগল, ফেসবুক ইত্যাদি ইন্টারনেটভিত্তিক সেবা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে পরিশোধিত অর্থ থেকে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সব ধরনের ট্যাক্স, ভ্যাট এবং অন্যান্য রাজস্ব অনতিবিলম্বে আদায়ের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এছাড়া বিগত পাঁচ বছরে পরিশোধিত অর্থের বিপরীতে এসব সেবা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে আনুপাতিক হারে বকেয়া রাজস্ব আদায় করতে বলা হয়েছে। কী পরিমাণ রাজস্ব আদায় হয়েছে তা প্রতি ছয় মাস অন্তর অগ্রগতি প্রতিবেদন দিয়ে আদালতকে অবহিত করতে এনবিআরকে বলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত রিটের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ গতকাল রবিবার এ রায় দেন। রায়ে হাইকোর্ট বলেছে, এসব সেবা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে এদেশে ব্যবসা করতে হলে ভ্যাট ও ট্যাক্স দিয়েই ব্যবসা করতে হবে।
রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব ইত্তেফাককে বলেন, এই রায়ের ফলে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হবে। উক্ত রাজস্ব দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে। আদালতে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্যারিস্টার খোন্দকার রেজা-ই রাকিব। তিনি বলেন, ইন্টারনেটভিত্তিক সেবা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ভ্যাট ও ট্যাক্সের হার অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশে অনেক বেশি। এ হার বজায় থাকলে মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অর্থ দেশ থেকে চলে যাবে। এতে রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ইন্টারনেটভিত্তিক সেবা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গুগল, ইয়াহু, আমাজন, ফেসবুক ও ইউটিউবের রাজস্ব ফাঁকি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে রিট করেন ছয় আইনজীবী। ঐ রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। ঐ রুলের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট গতকাল এ রায় দেয়। রায়ে বলা হয়েছে, রিট মামলার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও সরকারি সংস্থাগুলো সাফল্যজনকভাবে রাজস্ব আদায়ে ব্যর্থ হয়েছেন। রায়টি একটি চলমান আদেশ হিসেবে বলবত্ থাকবে বলে উল্লেখ হাইকোর্ট বলেছে, এ রায়ের বাস্তবায়নে কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটলে দেশের যে কোনো নাগরিক যে কোনো সময় আদালতে আবেদন দাখিল করে প্রতিকার চাইতে পারবেন।