মাঝেরচরে ১০ বসতঘর ও নৌঘাট বিলীন
রফিকুজ্জামান আবীর, মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা
বলেশ্বর নদের ভাঙনে মঠবাড়িয়ায় প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার আয়তনের ১ হাজার ২০০ একর আবাদি জমি ও বন বিভাগের সৃজিত বনায়ন হুমকির মুখে পড়েছে। এদিকে, মাঝেরচরের ১০ জেলে পরিবারের বসতি বিলীন ও সাত বসতঘর ভাঙনের মধ্যে রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের পরে অব্যাহত ভাঙনে চরের পাকা নৌঘাট নদীগর্ভে চলে গেছে। অন্যদিকে, ধসে যাওয়া বাঁধ উপচে প্রতিদিন জোয়ারে কৃষিজমিতে লবণ পানি প্রবেশের কারণে রবিশস্যসহ ধানের ক্ষতি হচ্ছে। রবিবার দুপুরে মাঝেরচরে সরেজমিনে দেখা গেছে, চরের পূর্ব ও পশ্চিম অংশে অব্যাহত নদীভাঙনের পরিধি কমে আসছে। ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দা জেলে পরিবারগুলো এখন আতঙ্কগ্রস্ত। ভাঙনরোধে ব্লক নির্মাণ করা হয়নি। চরবাসীর অভিযোগ, বলেশ্বর নদীর চর ঘেঁষে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে মাঝেরচরের পূর্ব ও উত্তর অংশে সম্প্রতি ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে।
জানা গেছে, ৪০-এর দশকে জেগে ওঠা বলেশ্বর নদীর মধ্যবর্তী মাঝেরচরে ১ হাজার ২০০ মানুষের বসতি। এখানে ১৮০টি জেলে ও কৃষক পরিবারের বসবাস। মাঝেরচরের বাসিন্দা জেলে মো. হাকিম শরীফ জানান, ১০ জেলে পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। আরো সাতটি বসতঘর পানির মধ্যে আছে। ঘূর্ণিঝড় সিডর পরবর্তী মাঝেরচরে নানা উন্নয়ন হলেও পুরোনো বাঁধে কোনো সংস্কার হয়নি।
চরের ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের ওয়ারলেস অপারেটর মো. আব্দুল হালিম জানান, ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে চরটির চারদিকের বাঁধের অবস্থা খুবই নাজুক। সামান্য জোয়ার আসলেই বলেশ্বর নদের পানি চর ডুবিয়ে দেয়। এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঊরমী ভৌমিক মাঝেরচরের বর্তমান অবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, সম্প্রতি সম্ভাবনাময় দ্বীপ চরটি কয়েক দফা পরিদর্শন করে দেখেছি। সেখানে বেড়িবাঁধ, সড়ক বিপন্ন। মাঝেরচরের নৌঘাটটি ভাঙনে নদীগর্ভে চলে গেছে। প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার আয়তনের ১ হাজার ২০০ একর আবাদি জমি ও বন বিভাগের সৃজিত বনায়ন বলেশ্বর নদীর ভাঙনে হুমকিতে রয়েছে। অন্যদিকে বেড়িবাঁধটি টিআর ও কাবিখার আওতায় নির্মাণ করা হয়েছে। এটি সংস্কারে বরাদ্দ প্রয়োজন। মাঝেরচরটি সুরক্ষায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস বলেন, মাঝেরচরটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন নয়।