জমি রেজিস্ট্রেশন ও নামজারির (নামপত্তন) কার্যক্রম সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর ফলে জমি নিবন্ধনের (রেজিস্ট্রেশন) আট দিনের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নামজারি হয়ে যাবে। রেজিস্ট্রি অফিস থেকে সরাসরি রেজিস্ট্রিকৃত দলিল সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে পাঠানো হবে। সহকারী কমিশনার তাত্ক্ষণিক কার্যক্রম গ্রহণ করে তা গ্রহীতাকে জানিয়ে দেবেন। অতিরিক্ত কোনো তথ্যের প্রয়োজন হলে গ্রহীতার নিকট থেকে নিয়ে সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে কার্যসম্পাদন করবেন। রেজিস্ট্রেশন অফিসে মোট তিন কপি দলিল হবে একটি রেজিস্ট্রেশন অফিসে থাকবে, এক কপি গ্রহীতা আরেক কপি সহকারী কমিশনার অফিসে চলে যাবে। সব জমির মালিকানা সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য অনলাইনে উন্মুক্ত থাকবে। রেজিস্ট্রেশন অফিস, ভূমি অফিস এবং আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্ভারে দৃশ্যমান থাকবে সব তথ্য। এই কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের পরিচালক ও ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মোস্তফিজুর রহমান গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, এটি বাস্তবায়ন হলে জনভোগান্তি ও দুর্নীতি থাকবে না। তিনি এই পদক্ষেপকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী যুগান্তকারী উল্লেখ করে বলেন, এতে জমি নিয়ে জালিয়াতি, এক জমি একাধিকবার ক্রয় বিক্রয়, সরকারি সম্পত্তি জালিয়াতির মাধ্যমে দখল, ভুয়া নামজারি ইদ্যাদি ধরনের অনিয়ম বন্ধ হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে এবং মন্ত্রিপরিষদের অন্য সদস্যরা সচিবালয় থেকে এই সভায় যোগ দেন। সভায় ‘জমি রেজিস্ট্রেশন ও নামজারি কার্যক্রম সমন্বয় সাধনের প্রস্তাব অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। এর ফলে দেশের সাধারণ মানুষ, ক্রেতা-বিক্রেতা ইনভেস্টর সবার জন্য নতুন এক অধ্যায় সৃষ্টি হলো। এতে মামলা-মোকদ্দমাও কমে আসবে। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সিস্টেমে ভূমি রেজিস্ট্রেশন ও নামজারি আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে সাব-রেজিস্ট্রার অফিস ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন উপজেলা সার্কেল ভূমি অফিস থেকে সম্পন্ন হয়ে থাকে। বিষয়টি দুই মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকার ফলে সব সময় কমিউনিকেশন করা ডিফিকাল্ট ছিল। এ কারণে দীর্ঘসূত্রতা এবং রেজিস্ট্রেশনেও অস্পষ্টতা ছিল। যে কোনো জমি যে কেউ রেজিস্ট্রেশন করতে পারত।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব খোন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, এখন থেকে সাব-রেজিস্ট্রার অফিস ও এসি ল্যান্ড অফিসের মধ্যে একটা ইন্টারনাল সফটওয়্যার থাকবে। বাংলাদেশের সব এসি ল্যান্ড অফিসে ৪ কোটি ৩০ লাখ রেকর্ড অনলাইনে চলে এসেছে। এখন থেকে সাব-রেজিস্ট্রার অফিস ও এসিল্যান্ড অফিস একজন অপরজনের সার্ভারে ঢুকতে পারবেন। যখন কারো কাছে জমি রেজিস্ট্রেশনের জন্য যাবে, তখন সাব-রেজিস্ট্রার সঙ্গে সঙ্গে রেজিস্ট্রি করে দেবেন না, তিনি অনলাইনে এসিল্যান্ডের অফিস থেকে রেকর্ড অব রাইটস জানবেন। এত দিন দুটি দলিল করতে হতো। এখন থেকে তিনটি দলিল করতে হবে। বাড়তি একটা দলিল এসিল্যান্ড অফিসও পাবে। যেহেতু এসিল্যান্ড দলিল অনলাইনে পেয়ে যাচ্ছেন এবং তার কাছ থেকেই জমির ভেরিফিকেশন করে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে, সুতরাং এসিল্যান্ডের আর বাড়তি কিছুই লাগবে না। তিনি অটোমেটিক্যালি সফটওয়্যার ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমেই মিউটেশন (নামজারি) কমপ্লিট করবেন। এক্ষেত্রে কাউকে ডাকতে হবে না। এটার জন্য ম্যাক্সিমাম আট দিন সময় দেওয়া হয়েছে, তবে আট দিনও সময় লাগবে না। এই আট দিনের মধ্যে অটোমেটিক্যালি নামজারি হয়ে যাবে। ১৭টি উপজেলায় ইতিমধ্যে এ কাজ শুরু হয়েছে।
তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ যাতে জমির সমান ভাগ পায়, সেটি নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সেটি নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। আমরা দেখব তারা যেন বাবা-মায়ের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত না হন। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টিতে বারবার গুরুত্ব দিয়েছেন। কেউ তৃতীয় লিঙ্গের হলে তিনি কীভাবে জমির ভাগ পাবেন সেটি মুসলিম আইনের উত্তরাধিকারে বলা আছে। কিন্তু অন্য ধর্মের ক্ষেত্রে সেটি বলা নেই, সে বিষয়েই প্রধানমন্ত্রী অনুশাসন দিয়েছেন যাতে কেউ বঞ্চিত না হন।
দু-একদিনের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে সিদ্ধান্ত
করোনা ভাইরাসের কারণে ১৪ নভেম্বরের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সীমিত পরিসরে খোলা হবে নাকি ছুটি আরো বাড়বে—সেই সিদ্ধান্ত আগামী দু-একদিনের মধ্যে জানা যাবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় আপনাদের জানাবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার মতো পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাল-পরশুর মধ্যেই জানাবে।