নাগরিকদের জন্য ‘ইউনিক আইডি’

দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য আসছে ‘ইউনিক আইডি’। একটি নম্বরের অধীন থাকবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, জন্মসনদ, ব্যাংক হিসাব, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় সেবামূলক নম্বর।

জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একটি মাত্র নম্বরে চিহ্নিত হবেন একজন নাগরিক। এই উদ্দেশ্যকে সামনে ইউনিক আইডি প্রদান কার্যক্রম হাতে নিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পর্যায়ক্রমে জন্মের প্রথম দিন থেকেই প্রতিটি নাগরিককে ইউনিক আইডি কার্যক্রমের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অণুবিভাগের (এনআইডি) মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ইউনিক আইডির লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জন্ম এবং মৃত্যু নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এনআইডি উইংয়ের চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারি মাস থেকে এই কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ১০ ডিজিটের একটি নম্বরেই একজন ব্যক্তি পরিচিত হবেন। এতে করে নাগরিক সেবাগ্রহণে সহজ হবে। কমবে অনিয়ম ও দুর্নীতি।  অপরাধও কমে আসবে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, ইউনিক আইডি প্রদানের লক্ষ্যে বর্তমানে জন্ম এবং মৃত্যু নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের সার্ভার আপডেট করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে পাসপোর্ট, ব্যাংক হিসাব, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ অন্যান্য সেবামূলক কার্যক্রম ইউনিক আইডির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে এ সংক্রান্ত আলোচনা করবে ইসির সংশ্লিষ্টরা। ব্যাংক হিসাবের ক্ষেত্রে প্রতিটি ব্যাংকের জন্য আলাদা কোড নম্বর দিয়ে পরবর্তী সময়ে ১০ ডিজিটের নম্বর থাকবে। মূলত ১০ কোটি ৯৬ লাখ মানুষের যে ১০ ডিজিটের এনআইডি রয়েছে সেটিই ইউনিক আইডি। এতে অনিয়ম এবং দুর্নীতি বহুলাংশে কমে আসবে বলে মনে করছে ইসি।

কীভাবে করা হবে ইউনিক আইডি?

প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিক একটিমাত্র Unique ID বা UID নম্বর বহন করবেন। এমন উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ইউনিক আইডি সিস্টেম প্রচলন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অণুবিভাগ। কোনো ব্যক্তি তার জন্ম হতে মৃত্যু পর্যন্ত একটি নম্বর ব্যবহার করবে যাকে বলা হচ্ছে ইউনিক আইডি। ব্যক্তি যখন জন্ম নিবন্ধন অথবা জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন এর জন্য নিবন্ধিত হবেন তখন তাকে ইউনিক আইডি দেওয়া হবে। ইউনিক আইডি নম্বর বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। জন্ম নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ একটি শিশুর জন্মের পরপরই তাকে এই ১০ ডিজিটের ইউনিক আইডি দেবে। ইউনিক আইডির জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধনের সিস্টেম এবং জন্ম নিবন্ধনের সিস্টেম এই দুইটি এনআইডি সার্ভারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। এরই মধ্যে যাদের বয়স ১৮ বছরের ওপরে অর্থাত্ যারা এরই মধ্যে নিবন্ধিত হয়েছেন তাদের সবার ১০ ডিজিটের ইউনিক আইডি নম্বর তৈরি করা হয়েছে। যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে অর্থাত্ যারা কি না এখনো ভোটারের জন্য অন্তর্ভুক্ত হননি তাদের জন্য এখন থেকে ইউনিক আইডি তৈরি করা হবে।

তিনভাবে ইউনিক আইডি করা যাবে। বিশেষ করে যে সব ব্যক্তির পিতা ও মাতা উভয়েরই এনআইডি নম্বর আছে তাদের জন্য ব্যক্তির নাম, জন্ম তারিখ এবং পিতা-মাতার এনআইডি নম্বর, জন্ম তারিখ নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে পাঠাতে হবে। নির্বাচন কমিশন এর সার্ভার পিতা-মাতার এনআইডি নম্বর যাচাইপূর্বক উক্ত ব্যক্তির জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১০ ডিজিটের ইউনিক আইডি প্রেরণ করবে।

একইভাবে যে সব ব্যক্তির পিতা অথবা মাতার এনআইডি নম্বর আছে তাদের ক্ষেত্রে ব্যক্তির নাম, জন্ম তারিখ এবং পিতা অথবা মাতার এনআইডি নম্বর, জন্ম তারিখ ইসির এনআইডি সার্ভারে এ প্রেরণ করতে হবে। ইসির সার্ভার পিতা অথবা মাতার এনআইডি নম্বর যাচাইপূর্বক উক্ত ব্যক্তির জন্য ইউনিক আইডি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রেরণ করবে। এছাড়া যে সব ব্যক্তির পিতা বা মাতা কারো এনআইডি নম্বর নেই তাদের নাম, জন্ম তারিখ অথবা ভাই-বোন বা উপযুক্ত অভিভাবকের এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ ইসির সার্ভারে পাঠিয়ে নির্বাচন কমিশনের সার্ভার প্রেরিত এনআইডি নম্বর যাচাইপূর্বক উক্ত ব্যক্তির জন্য ইউনিক আইডি পাঠানো হবে।

যাদের বয়স ১৮ বছরের ওপরে অর্থাত্ এরই মধ্যে যারা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তাদের ইউনিক আইডির এর জন্য ব্যক্তির এনআইডি  নম্বর, জন্ম তারিখ ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রেরণপূর্বক সঠিকতা যাচাই করলে উক্ত ব্যক্তির পূর্বে তৈরি এনআইডি নম্বর প্রেরণ করবে ইসি। অথবা কোন ব্যক্তির এনআইডি নম্বর জন্ম তারিখ, পিতার নাম, মাতার নাম নির্বাচন কমিশন সার্ভারে প্রেরণ করলে ঐ ব্যক্তির পূর্বে তৈরি ইউনিক আইডি প্রেরণ করা হবে। প্রকৃত পক্ষে বর্তমানে লেমিনেটিং  কার্ড এবং স্মার্ট কার্ডে প্রদর্শিত ১০ সংখ্যার এনআইডি নম্বরটি ব্যক্তির ইউনিক আইডি।