জি কে শামীমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা

গণপূর্তের তিন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দুদকে

ঠিকাদার গোলাম কিবরিয়া (জি কে) শামীমের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের তিন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান দল। তারা হলেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী ও সার্কেল-১-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী। তাদের সম্পদ বিবরণী দাখিলের সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের একজন উপপরিচালক বলেন, ‘আমরা কয়েক জন প্রকৌশলীর বিষয়ে কমিশনে মামলা ও সম্পদ বিবরণী দাখিলের সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। কমিশন প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দিলে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ ও মামলা করা হবে।’

দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত অনুবিভাগের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন ১২ জানুয়ারি গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোসলেহ উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদের নোটিশ দেন। তাকে গত ১৬ জানুয়ারি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। নোটিশে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণী লেখা হয়েছে ‘ঠিকাদার গোলাম কিবরিয়া শামীমসহ অন্যান্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরকারি কর্মকর্তাসহ প্রভাবশালীদের শত শত কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে বড় বড় ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাত্, ক্যাসিনো ব্যবসা ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা অবৈধ প্রক্রিয়ায় অর্জনপূর্বক বিদেশে পাচার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ।’

গত বছরের ৮ ডিসেম্বর সৈয়দ ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত নোটিশ দেওয়া হয় নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শওকত উল্লাহসহ আট জনকে। শওকতের বিরুদ্ধেও জি কে শামীমের সঙ্গে যোগসাজশ করে ঘুষ নেওয়া এবং অবৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশে পাচারের অভিযোগ আনা হয়। তাকে গত ১৯ ডিসেম্বর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

কমিশনের অনুসন্ধান দলের কর্মকর্তারা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে এসব প্রকৌশলীর সঙ্গে জি কে শামীম ও তার সহযোগীদের ঘুষ লেনদেনসহ নানা বিষয় উঠে আসে। তাদের জিজ্ঞাসাসাদ করার পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বিএফআইইউ, রাজউক, সিটি করপোরেশন, ডাক বিভাগসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়ে তথ্য চাওয়া হয়। সেখান থেকেও বেশ কিছু তথ্য আসে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে কমিশন কর্মকর্তারা তাদের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধান কর্মকর্তা দুদক আইন অনুযায়ী তাদের সম্পদ বিবরণী দাখিলের সুপারিশ করে।

দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য জানান, জি কে শামীমের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে কয়েকটি অনুসন্ধান ও মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিকেতন এলাকা থেকে গ্রেফতার হন জি কে শামীম। ৩০ সেপ্টেম্বর জি কে শামীম ও তার সহযোগীদের সম্পদ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। ঐ দিন থেকেই সংস্থার পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি কাজ শুরু করে।