মোস্তফা জগলুলের সব ব্যাংক হিসাব স্থগিতের নির্দেশ

সংগীতশিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদের ভাই প্রয়াত মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদের সব ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। জগলুল ওয়াহিদের সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে তার স্ত্রী ও দুই কন্যার এফিডেভিট দাখিলের পর বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ভার্চুয়াল বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে মোস্তফা জগলুলের গুলশানের বাড়িতে থাকা কোনো জিনিসপত্র বাইরে না নেওয়ারও আদেশ দিয়েছে আদালত।

মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদের দুই মেয়েকে উদ্ধৃত করে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৮৪ সালে তাদের মাকে নিয়ে তাদের বাবা গুলশানে দশ কাঠা জমির ওপর নির্মিত এই বাড়িতেই বসবাস করছিলেন। তাদের জন্ম এই বাড়িতে। ২০০৫ সালে তাদের মা-বাবার বিচ্ছেদ হয়। পরে আনজু কাপুর নামে এক ভারতীয়কে বিয়ে করেন তার বাবা। আনজু কাপুর একাই ঐ বাড়ির ভোগদখল করছেন। তারা ঐ বাড়িতে প্রবেশ করতে চাইলেও তা করতে দেওয়া হচ্ছে না।

প্রকাশিত এই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে গত ২৬ অক্টোবর হাইকোর্টের নির্দেশে মোস্তফা জগলুলের দুই কন্যা মুশফিকা মোস্তফা ও মোবাশশারা মোস্তফাকে গুলশানের ঐ পৈতৃক বাড়িতে তুলে দেয় পুলিশ। গতকাল শুনানি শেষে হাইকোর্ট জগলুল ওয়াহিদের ডেথ সার্টিফিকের অনুলিপি তিন দিনের মধ্যে মেয়েদের নিকট হস্তান্তর করতে বলেছে।

এছাড়া জগলুলের মৃত্যুর পরে ব্যাংকে লেনদেন ও বর্তমান হিসাব এফিডেভিট আকারে আদালতে দাখিল করতে আনজু কাপুর ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ম্যানেজারকে বলা হয়েছে। আনজু কাপুর বিদেশি নাগরিক হিসেবে এফিডেভিট প্রদান ও সম্পত্তির মালিক হতে পারবে কি না সে বিষয়েও তাকে এফিডেভিট দিতে বলেছে হাইকোর্ট। সম্পত্তি উইল করে দেওয়া হয়েছে—আনজু কাপুরের এমন এফিডেভিট বিষয়ে দুই মেয়ের পক্ষে তাদের আইনজীবীদেরকে এফিডেভিট দিয়ে জবাব দিতে বলা হয়েছে। আগামী ৩ ডিসেম্বর এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।