সাভার পৌর এলাকার বনপুকুর মহল্লার ওয়াপদা রোডে অবস্থিত অনুমোদনহীন একটি ৬ তলা ভবন হেলে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভবনটি সিলগালা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার বিকেলে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম আরা নীপা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভবনটি সিলগালা করার নির্দেশ দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাভার পৌরসভার মেয়র আব্দুল গণি, সাভার আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) হ্যাপী দাস।
সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা যায়, ১৯৯৭ সালে সাভার পৌর এলাকার ওয়াপদা রোড মহল্লায় প্রায় ৮ শতক জমির উপর ৬ তলা একটি ভবন নির্মাণ করেন তাজুল ইসলাম। গত দুই মাস আগে তিনি মারা গেলে বর্তমানে তার স্ত্রী মজিদা আক্তার শিরীন ও তার ছেলেমেয়েরা ভবনটিতে বসবাস করার পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দিয়ে আসছেন। মঙ্গলবার সকাল থেকেই ৩/২ নম্বর হোল্ডিংয়ের প্রিয়াঙ্কা ম্যানশন নামক বাড়িটির নিচ তলার বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেয় এবং কিছু অংশ দেবে যায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফাটলের পরিমাণ বাড়তে থাকে এবং ভবনটি উত্তর পাশের অপর একটি ৬ তলা ভবনের দিকে হেলে পড়ে।
আরো পড়ুন : নমুনা পরীক্ষার ১০ শতাংশ ভুল: টিআইবি
খবর পেয়ে সাভার ফায়ার সার্ভিস, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাভার পৌর কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় নিরাপত্তার স্বার্থে ভবনটিতে বসবাস করা লোকজনদেরকে অন্যত্র সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এ সময় পৌর মেয়র, স্থানীয় কাউন্সিলর, পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী, সাভার ফায়ার সার্ভিসের সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন। এরপর সাভার উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে ভবনটি সিলগালা করে দেয়া হয়। সাভার পৌরসভার পক্ষ থেকে ভবন মালিককে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।
সাভার পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. আলম মিয়া বলেন, ছয়তলা ভবনের পশ্চিম পাশের কলাম বসে গেছে এবং বিমে ফাটল দেখা গেছে। এছাড়া রাস্তার পাশে ফাটল ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় আপাতত ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভবনে থাকা সকল বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে দিয়ে গ্যাস-বিদ্যুৎসহ সকল প্রকার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তবে ভবনটির অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে মালিকপক্ষ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।
এদিকে হেলে পড়া ভবন মালিকের ছেলে শামীম হোসেন অভিযোগ করেন, আমাদের ভবনটির পূর্বপাশের দেয়ালের সাথে দুই শতাংশ জমিতে ৯ তলা ভবন নির্মাণ করেছেন নুর ইসলাম। তিনি ভবন নির্মাণের কোন নিয়ম না মেনেই আমদের দেয়াল ব্যবহার করায় ওই ভবনটির চাপেই আমাদের ভবনটি হেলে পড়েছে।
সাভার পৌর সভার মেয়র আব্দুল গণি বলেন, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়ায় গ্যাস, বিদ্যুৎ, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সকল দপ্তরে চিঠি দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ভবনটির অনুমোদনের নূন্যতম বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি মালিকপক্ষ। তাই আমরা ধরে নিচ্ছি অনুমোদনহীনভাবেই ভবনটি গড়ে তোলা হয়েছে।
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা নীপা বলেন, হেলে পড়া ভবনটি পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়ায় তা সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া ভবনটির বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে দেয়ার পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর চিঠি দেয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/ইউবি