করোনার ধাক্কা সামলে আবারও মধ্যপ্রাচ্য আর ইউরোপের বাজারে যেতে শুরু করেছে যশোরের সবজি। শুধু যাচ্ছেই না, সবজির পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের তালিকায়ও যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন দেশ। সেই সঙ্গে বেড়েছে রপ্তানিকারকের সংখ্যাও।
কৃষি বিভাগ জানায়, দেশের মোট চাহিদার ৬৫ শতাংশ সবজির জোগানদাতা যশোর। তাদের হিসাব অনুযায়ী, যশোর জেলায় বছরে দুই মৌসুমে মোট ৬ লাখ টন সবজি উত্পাদিত হয়। এ বছর জেলায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে সবজির চাষ হয়েছে। জেলার সবজিভান্ডার বলে খ্যাত চূড়ামনকাটি, বারীনগর, হৈবতপুর, কাশিমপুরের পাশাপাশি মনিরামপুর, কেশবপুর, বাঘারপাড়াসহ অন্যান্য উপজেলায়ও মাঠ জুড়ে আবাদ হয় সবজি। সবজির ভরা মৌসুমে সঠিক সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের অভাবে কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল খেতেই নষ্ট হয়। এসব দিক বিবেচনা করে কৃষককে সবজি চাষে লাভজনক করে তুলতে কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় একটি উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে বিদেশে সবজি রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই মধ্যে গত দুই মাসে ৫৪ মেট্রিকটন সবজি রপ্তানি করা হয়েছে। এজন্য ৫০০ বিঘা জমিতে ফ্রেমন ট্রাপ, হলুদ ফাঁদসহ বালাইনাশক পদ্ধতি ব্যবহার করে বিষমুক্ত সবজি উত্পাদন করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, ২০১৬ সাল থেকে যশোরে উত্পাদিত শুধু পটোল রপ্তানি হতো। পাশাপাশি আরো নতুন নতুন পণ্য যুক্ত করার পাশাপাশি নতুন বাজার সন্ধানেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু করোনার ধাক্কা সব আয়োজনকে ভেস্তে দেয়। থমকে দেয় বৈদেশিক মুদ্রা আহরণের পাশাপাশি কৃষকের স্বপ্নকে। ভেঙে যাওয়া স্বপ্ন জোড়া লাগাতে শুরু হয় নানামুখী তত্পরতা। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে জেলার ৫০০ কৃষককে ‘উত্তম কৃষি চর্চা’র জন্য প্রশিক্ষিত করা হয়। পরিমিত সার ও পানির ব্যবহার আর মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষার নানা প্রযুক্তিজ্ঞানে তাদের প্রশিক্ষিত করা হয়।