সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান আহমদ নামের যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ঐ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই (বহিষ্কৃত) আকবর হোসেন ভূঁইয়ার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। এদিকে সোমবার কানাইঘাট সীমান্তের ওপারে খাসিয়াদের কাছে ধরা পড়ার পর আকবর বলেন, একজন সিনিয়র অফিসারের পরামর্শে তিনি পালিয়ে যান। যিনি বলেছিলেন, তুমি চলে যাও, দুই মাস পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফিরে আসবা।’ এসব কথা এখন গণমাধ্যমে ঘুরপাক খাচ্ছে। একই সঙ্গে সিলেটের মানুষ তথা দেশবাসী জানতে চায়, রায়হান হত্যার পর কোন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরামর্শে পালিয়ে যান ক্ষমতাধর আকবর। কে সেই সিনিয়র অফিসার?
ভারত সীমান্তে ধরা পড়ার পর খয়েরি রঙের ফুল হাতা শার্ট, উসকো-খুসকো চুল, চাপদাড়ি নিয়ে ক্যামেরায় ধরা দেন আকবর। ভাইরাল হওয়া দুটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, সবুজ রঙের নাইলনের রশি দিয়ে আকবরের কোমর ও হাত বাঁধা। নিজের পক্ষে কেঁদে কেঁদে সাফাই গাইতে দেখা যায় ভিডিওগুলোতে। একটি ভিডিওতে আকবরকে পিছমোড়া করে বেঁধে রাখা দেখতে পাওয়া যায়। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদে আকবর এসব কথা বলেন।
সিলেটবাসী মনে করে, পুলিশের হেফাজতে একজন নিরীহ মানুষকে হত্যার পর এর সঙ্গে জড়িত প্রধান আসামিকে যারা পালাতে বলেছেন তিনিও অপরাধী। তাকেও আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। নতুবা এই হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন ও অন্যায় কাজের অবসান হবে না। সিলেটের অনেকেই বলেছেন, যুবক রায়হান হত্যার জন্য শুধু আকবর একা দায়ী নন।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কড়া পুলিশ পাহারায় আকবরকে সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক আবুল কাশেমের আদালতে হাজির করে পিবিআই। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক আওলাদ হোসেন আদালতে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত শুনানি শেষে সাত দিনই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গত সোমবার দুপুরে কানাইঘাটের দনা সীমান্ত এলাকা থেকে পুলিশ আকবরকে গ্রেফতার করে রাতেই পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করে। আলোচিত এই মামলায় এ পর্যন্ত চার পুলিশ সদস্য গ্রেফতার রয়েছেন। এদের তিন জনই কারাগারে আছেন।
উল্লেখ্য, গত ১১ অক্টোবর শনিবার মধ্যরাতে যুবক রায়হানকে নগরীর কাষ্টঘর এলাকা থেকে ধরে এনে তার ওপর নির্যাতন চালায় বন্দরবাজার ফাঁড়ির পুলিশ। পরদিন ভোরে ওসমানী হাসপাতালে তিনি মারা যান।