বগুড়ায় এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় কিস্তির চাপে এক পরিবারের শিশুসহ ৩ জন মঙ্গলবার রাতে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়েছেন। তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে এদের মধ্যে বুলুবুলি বেগম (২০) নামে এক গৃহবধূ বুধবার বিকেল সাড়ে ৩ টায় হাসপাতালে মারা গেছেন। হাসপাতালে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছে ৫ বছর বয়সের শিশু ও শিশুর বাবা। তাদের অবস্থাও আশংকাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়। এদের বাড়ি বগুড়া সদরের গোকুল নওদাবগা এলাকায়।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নওদাবগা গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে মহিদুল ইসলাম দিনু (২৬) শ্রমিকের কাজ করতো। করোনার কারণে ঠিকমতো কাজ পাচ্ছিলেন না। এরই এক পর্যায়ে সে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে বাড়িতে মুদি দোকান দেন। সেই দোকানও ঠিকমতো চলছিনা। এদিকে এনজিও থেকে কিস্তির জন্য চাপ দিতে থাকে। এরই এক পর্যায়ে মঙ্গলবার রাতে মহিদুল ইসলাম ও তার তিন মাসের গর্ভবতী স্ত্রী বুলবলি বেগম ও একমাত্র শিশু কন্যা মেঘনাসহ এই তিনজন আত্মহত্যার জন্য গ্যাস ট্যাবলেট খান। বিষয়টি প্রতিবেশীরা টের পেয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বুলুবুলি বেগমের মৃত্যু হয়।
মহিদুল ইসলাম দিনুর মা মর্জিনা বেগম বলেন, হাসপাতালে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছে তার ছেলে ও নাতনি। তিনি বলেন, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে পরিশোধ করতে না পারায় এনজিওর লোকজন প্রচণ্ড চাপ দিতে থাকে। তাদের চাপ সইতে না পেরে মহিদুল স্ত্রী সন্তান নিয়ে আত্মহত্যা করার জন্য গ্যাস ট্যাবলেট খায়।
আরো পড়ুন: রাজধানীতে চলছে ব্যাটারি রিক্সা, বাড়ছে যানজট ও লোডশেডিং
বগুড়া মেডিক্যাল ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল আজিজ মন্ডল বলেন, একই পরিবারের ৩ জন গ্যাস টেবলেট খেয়েছে,এদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। অপর ২ জনের অবস্থাও আশংকাজনক।
ইত্তেফাক/এএএম