নিজেকে গ্রহণযোগ্য করে তুুলতে মানসম্পন্ন কিছু কাজই যথেষ্ট। আর সেভাবেই নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছেন নাট্যকার মো. মিজাহারুল ইসলাম। তার লেখা বেশ কয়েকটি নাটক ইতিমধ্যে টিভি চ্যানেলে প্রচার হয়েছে। এই প্রতিভাবান নাট্যকারের গল্প শোনাচ্ছেন অজেয় চৌধুরী
একটি মানসম্মত নাটকের জন্য প্রথমেই প্রয়োজন ভালো গল্প। সেই গল্পের কাহিনিকে চিত্রনাট্যকার নিজের শিল্পগুণে করে তোলেন অসাধারণ। এরপর গুণী অভিনয়শিল্পীরা নিজের চরিত্রটি উপস্থাপন করেন আপন কারিশমায়। আর পরিচালক তার নির্মাণশৈলী দিয়ে নাটকের মাধ্যমে দর্শকহূদয় জয় করেন। একজন নাট্যকার হিসেবে আত্মপ্রকাশের গল্প জানতে চাইলে মো. মিজাহারুল ইসলাম মৃদু হাসলেন। কয়েক সেকেন্ডের বিরতি নিয়ে তিনি বলেন, আমি যেহেতু লেখালেখি করি, তাই নিজের লেখার চিত্ররূপ দেখার বাসনা বা সুপ্ত ইচ্ছা ছিল বরাবরই। সেই থেকেই নাটকের চিত্রনাট্য করি। কয়েক বছর থেকে একুশে বইমেলায় নিয়মিত আমার কবিতার বই প্রকাশ হচ্ছে। আসছে বইমেলাতেও উপন্যাস ‘নক্ষত্র নগর’ ও কাব্য ‘উচ্ছ্বাস’ প্রকাশিত হবে। তার লেখা নাটকগুলো মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—‘টুইস্ট’, ‘আমার হূদয় তোমার’, ‘ব্ল্যাক রুম’, ‘গার্লস ক্লাব ১৮’ ইত্যাদি। নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কাউরাট গ্রামে এই প্রতিভাবান নাট্যকারের জন্ম। গ্রাম ও মফস্বল শহরের জল-জোছনায় কাটে তার শৈশব-কৈশোর। বর্তমানে মিজাহারুল ইসলামের লেখা ‘সংসার’ ও ‘মহাকাল’ নামে দুটি নাটকের নির্মাণকাজ চলছে। এগুলো পরিচালনা করছেন দীপু হাজরা ও সুস্ময় সুমন। নতুন যারা এই পেশায় এসেছেন তাদের সম্পর্কে তিনি বলেন, অবশ্যই নতুনদের মধ্যে অনেকেই ভালো করছেন। আমি চাই আরও ভালো করুক। তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, নিজের মধ্যে সততা, সহনশীলতা, আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। কাজের প্রতি একাগ্রতা থাকার পাশাপাশি সর্বোপরি পরস্পর শ্রদ্ধাবোধ থাকা জরুরি। পরামর্শ সকলের নিতে হবে কিন্তু, সিদ্ধান্তটা নিজের হতে হবে। এইসবের সমন্বয় হলেই তবেই ভালো কিছু করা সম্ভব। ভবিষ্যত্ ভাবনার কথা জানতে চাইলে মিজাহারুল ইসলাম বলেন, মানুষ তার আশার সমান সুন্দর ও বিশ্বাসের সমান বড় হতে পারে। প্রত্যেকের হূদয়ে একজন মানুষ বসবাস করে। সে কথা বলে, আত্মনিমগ্ন হয়ে কান পাতলে সেই ভেতরের মানুষটির কথা শোনা যায়। সে যা বলে ঠিক সেই অনুযায়ী কাজ করলেই জীবনে সফল হওয়া যায়, বড় কিছু করা যায়। কারণ সেখানে আমি বা আপনি সম্পূর্ণ একা। আর আমার ভেতরের মানুষটি বলে আমাকে মানুষের জন্য কিছু করতে হবে। সেইসঙ্গে নিজের কর্মক্ষেত্রকে এবং শখের জায়গাগুলোকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখা চাই।