ডাইংয়ের বর্জ্যে বিষিয়ে উঠেছে হাঁড়িধোয়া নদী

মাসুম বিল্লাহ, আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা

আড়াইহাজার উপজেলার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত মেঘনার শাখা নদী হাঁড়িধোয়া। বর্তমানে এ নদীর পানি কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে ব্যাপকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ এখন হাঁড়িধোয়াকে ‘ডাইংধোয়া’ নামে আখ্যায়িত করে থাকেন। কথিত আছে, এক সময় এই নদীর দুই তীরে বসবাসকারীরা গৃহস্থালি কাজ  বিশেষ করে, হাঁড়িপাতিল ধোয়ার জন্য এ নদীর পানি ব্যবহার করতেন। কেউ কেউ এসব বাড়িতে মাজাঘষা শেষে ধুয়ে পরিষ্কার  করার জন্য নিয়ে আসতেন নদীর ঘাটে। সেই থেকে এ নদীর নাম হয় হাঁড়িধোয়া।  কালের সাক্ষী হাঁড়িধোয়া এখনো বহমান। তবে আগের মতো নেই উত্তাল-উদ্দ্যাম গতি। নেই কাকের চক্ষুর মতো পরিষ্কার পানি। নদীর দুই তীরে মনুষ্যবসতি আগের চেয়ে ঘনত্ব পেয়েছে। কিন্তু কেউ এখন আর এ নদীতে হাঁড়িপাতিল ধোয়ার কাজ করে না। গৃহস্থালি কাজের জন্যও খুব একটা ব্যবহূত হয় না এর পানি। অথচ এখনো একে সবাই শনাক্ত বা সম্বোধন করে থাকেন ‘হাঁড়িধোয়া’ নামে। নাম যাই হোক এ নদী আবহমান বাংলার কথা বলে। প্রাণ-প্রকৃতি ও প্রতিবেশ পরিবেশ রক্ষায় তার নিরন্তর স্রোতধারা এলাকার আশীর্বাদ বটে। তবে ধীরে ধীরে এর উদর ভরছে, বিষাক্ত হয়ে পড়ছে। নদীতীরে অরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে ছোটবড় বহু কারখানা। যার মধ্যে ডাইং কারখানাই বেশি। সেসব কারখানায় নেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। তাই অবলীলাক্রমে কারখানার বর্জ্য সরাসরি গিয়ে পড়ছে এ নদীতে। বর্ষা মৌসুমে এ নদীর পানি কিছুটা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরলেও অন্য সময় তা নেহায়েতই রাসায়নিক বর্জ্য। রঙ ধারণ করে কালচে। এক সময় দুই তীরের ৩০টি গ্রামের মানুষ গোসল ও রান্নাবান্নাসহ কৃষিকাজে এর পানি ব্যবহার করত। তবে দূষণের কারণে এখন এ নদীর পানি কৃষিকাজে ব্যবহার করা যায় না। দুর্গন্ধে তোলা যায় না হাতে। অনেক সময় পানির কাছে পর্যন্ত যাওয়া যায় না। স্থানীয়রা জানান, ৪০-৫০ ফুট প্রস্থের মাধবদী খাল দিয়ে অনবরত ডাইং কারখানার তরল বর্জ্য মেঘনায় পড়ছে। আর এ বর্জ্য অনায়াশেই ঢুকছে মেঘনার এ শাখা নদীতে। ফলে এক সময়  এ নদীতে  প্রচুর মাছ বাস করলেও বর্তমানে প্রায়  মাছশূন্য। এলাকার জেলে সম্প্রদায়ের অনেকেই মাছের অভাবে ছেড়েছেন পেশা। আতাউর নামে উলুকান্দি গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, ১০-১২ বছর আগেও দুই পাড়ের জমিতে বোরো ধানের চাষ হতো। কিন্তু ডাইং কারখানার বিষাক্ত পানির কারণে এখন চাষ বন্ধ হয়ে গেছে। এখন পানি ব্যবহার তো দূরের কথা, হাত দিলেই চুলকায়। যারা এ নদীর সংস্পর্শে আসেন তারা ভোগেন নানা চর্মরোগে। আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সোহাগ হোসেন বলেন, আড়াইহাজারে মেঘনা নদীতে ডাইংয়ের তরল বর্জ্য মিশে নদীর পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নদীদূষণ রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কাজ শুরু হয়েছে।