বার কাউন্সিলের গেজেট বৈধতার রায় আপিল বিভাগে স্থগিত
ইত্তেফাক রিপোর্ট
হাইকোর্টে আপাতত প্র্যাকটিস করতে পারছেন না মো. জুম্মান সিদ্দিকী। তাকে হাইকোর্টে সরাসরি প্র্যাকটিসের অনুমতি সংক্রান্ত গেজেট বৈধ ঘোষণার রায় স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ গতকাল বুধবার এই আদেশ দেন। এতে বলা হয়েছে, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের না হওয়া পর্যন্ত তা স্থগিত থাকবে। এ সময় দুই রিটকারী পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল আদালতে বলেন, বার কাউন্সিলের গেজেট বৈধের পাশাপাশি দুই রিট পিটিশনারকে ১০০ টাকা করে জরিমানা করেছে হাইকোর্ট। সেটাও স্থগিতের আবেদন জানাচ্ছি। তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, স্থগিত করা মানে পুরো রায়ই স্থগিত থাকবে।
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েও কৃতকার্য হতে পারেননি হাইকোর্টের এক বিচারপতির ছেলে মো. জুম্মান সিদ্দিকী। গত ১৯ সেপ্টেম্বর তাকে সরাসরি হাইকোর্টের আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিসের অনুমতি দেয় বার কাউন্সিল। গত বছরের ৩১ অক্টোবর এ সংক্রান্ত গেজেটও প্রকাশিত হয়। ঐ গেজেটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন ও ইশরাত হাসান।
ঐ আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ১৮ ডিসেম্বর বিচারপতি তারিক-উল হাকিম ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ বার কাউন্সিলের অনুমতি প্রদান সংক্রান্ত গেজেটের কার্যকারিতা স্থগিত করে দেন। একইসঙ্গে ঐ গেজেট কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়। ঐ রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে গত ৮ নভেম্বর বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জারিকৃত রুল খারিজ করে গেজেট বৈধ ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে রিটকারী দুই আইনজীবীকে ১০০ টাকা করে কস্ট আরোপ করেন। হাইকোর্টের এই রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে পরদিন আবেদন করেন ঐ দুই রিটকারী। আবেদনের পক্ষে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ব্যারিস্টার অনীক আর হক এবং জুম্মান সিদ্দিকীর পক্ষে ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম ও ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর শুনানি করেন। শুনানি শেষে রায় স্থগিত করে দেয় আপিল বিভাগ।