চট্টগ্রামে মাটির নিচে বিদ্যুত্ লাইন হচ্ছে

চট্টগ্রাম মাটির নিচ দিয়ে ৩৩ কেভি বিদ্যুত্ বিতরণ লাইন স্থাপনের কাজ চলছে। প্রথম পর্যায়ে চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৮৩ কিলোমিটার বিদ্যুত্ লাইন স্থাপন করা হবে। প্রায় ৪৬০ কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষ প্রকল্পের কাজ আগামী আড়াই বছরের মধ্যে শেষ হবে। ঢাকা ও সিলেটের পর চট্টগ্রামে মাটির নিচ দিয়ে বিদ্যুত্ লাইন স্থাপনের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, জিওবি অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুত্ বিতরণ ব্যবস্থা স্থায়ীভাবে নিরাপদ থাকবে। তারা বলেন, প্রতিনিয়ত বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন লাইন নির্মাণ করতে হচ্ছে। বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা নিরসনে নতুন লাইন স্থাপন করতে গিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে তারের জঞ্জাল সৃষ্টি হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বিদ্যুতের জরাজীর্ণ তার ছিঁড়ে পড়ে পথচারী হতাহত হচ্ছে, বাসাবাড়িতে আগুন লাগছে। চট্টগ্রামে বিদ্যুত্ বিতরণ লাইন কয়েক যুগের পুরোনো। ক্ষতিগ্রস্ত তার মেরামতে বছরে পিডিবির প্রচুর টাকা খরচ হচ্ছে। মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে বিদ্যুত্ বিতরণ ব্যবস্থা চলছে।

ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক ফরিদ আহমেদ চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা দেখেছি অধিকাংশ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বিদ্যুত্ থেকে সৃষ্ট। বৈদ্যুতিক তার সময়মতো রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে না। বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ডিশ, ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন সংস্থার তারের জঞ্জাল তৈরি হয়েছে, যা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।’

প্রকল্প সূত্র জানায়, ‘বিদ্যুত্ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন, চট্টগ্রাম জোন, দ্বিতীয় পর্যায়’ নামে সরকার গৃহীত এ প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে। পিডিবির প্রকৌশলীরা প্রকল্পের ডিজাইন তৈরির কাজ করছেন। পরবর্তীতে প্রয়োজন হলে বিদেশি পরামর্শক নিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্পের খুঁটিনাটি বিষয় যাচাই করা হবে।              প্রথম পর্যায়ে চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৮৩ কিলোমিটার এবং পরবর্তীতে উপজেলা পর্যায়ে মাটির নিচে বিদ্যুত্ লাইন স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৩ কেভি বিদ্যুত্ বিতরণ লাইন নির্মাণ করা হবে। বর্তমানের মাটির ওপর স্থাপিত বিদ্যমান বিতরণ লাইন ঠিক থাকবে। কেবল একটি সাবস্টেশন থেকে আরেকটি সাবস্টেশনে ছয়টি ক্যাবলের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করা হবে। প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ২৫টি নতুন সাবস্টেশন নির্মাণ ও সাতটি পুরোনো সাবস্টেশন সংস্কার। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নতুন সাবস্টেশনের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ বিতরণ করা সম্ভব হবে। আগামী ২২ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্প কর্মকর্তা প্রকৌশলী মকবুল হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, ‘বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে মাটির নিচ দিয়ে বিদ্যুত্ লাইন স্থাপন করা হয়েছে। বিদ্যুত্ বিতরণ লাইন মাটির নিচে থাকলে তার ও মানুষ নিরাপদে থাকবে। দুর্ঘটনা হবে না। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কমপক্ষে ৩০ বছরের মধ্যে মেরামতে হাত দিতে হবে না।’