রাজধানীর আদাবরে মাইন্ড এইড সাইকিয়াট্রি অ্যান্ড ডি-অ্যাডিকটেড হাসপাতালে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আনিসুল করিম হত্যার ঘটনায় হাসপাতালটির চার অংশীদারকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তারা হলেন মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, মো. সাখাওয়াত হোসেন, সাজ্জাদ আমিন ও মো. ফাতেমা খাতুন। তাদের গ্রেপ্তারে একাধিক টিম অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, এ ঘটনায় যারাই জড়িত থাক, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। পাশাপাশি এ ঘটনার অভিযোগপত্র দ্রুতই দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশীদ।
এদিকে আলোচিত এ ঘটনায় ইতিমধ্যে হাসপাতালের অন্যতম দুই অংশীকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে হাসপাতালের মালিক ও মার্কেটিং ম্যানেজার আরিফ মাহমুদ জয় সাত দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। আর গত মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করা হলেও অসুস্থতার কারণে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আছেন পরিচালক নিয়াজ মোর্শেদ।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মৃত্যুঞ্জয় দে সজল বলেন, ঘটনার পরেই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া হাসপাতালের মালিক ও মার্কেটিং ম্যানেজার জয়কে ৯ কর্মচারীসহ গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আগারগাঁওয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতাল থেকে অপর মালিক নিয়াজ মোর্শেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি প্যারালাইজড হওয়ায় ঐ হাসপাতালেই তাকে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় এজহারনামীয় ১৫ আসামির মধ্যে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বলেন, ‘আমরা যতটুকু জেনেছি, চিকিত্সার জন্য আনিসুল ঐ মানসিক হাসপাতালে গিয়েছিলেন। আমরা একটা ভিডিওতে দেখলাম, তাকে নিয়ে ধস্তাধস্তি করা হচ্ছে। একপর্যায়ে তিনি মারা যান বলে হূদেরাগ হাসপাতালের চিকিত্সকেরা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। রিপোর্ট পেলে জানাতে পারব কী ঘটেছে। মন্ত্রী বলেন, ‘আমি এখন পর্যন্ত যা শুনেছি, যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এই মানসিক হাসপাতালের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। অনুমোদনহীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
গাজীপুরের বাড়িতে মাতম
গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, আনিসুল মৃত্যুর ঘটনায় গত তিন দিন ধরে নিহতের গাজীপুর শহরের বাসায় চলছে মাতম। তার স্ত্রী, চার বছরের একমাত্র সন্তান, বৃদ্ধ বাবা, এক ভাই, দুই বোনসহ স্বজনদের কান্না যেন থামছেই না। গতকাল বুধবার সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার শোকাহত পরিববারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে আনিসুলের গাজীপুর শহরের বরুদা এলাকার বাসায় যান। এ সময় গাজীপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারসহ গাজীপুর জেলা পুলিশ ও মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। তাদের আগমনে স্বজনদের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে যায়।