যুবলীগের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে কুমিল্লায় জিল্লুর রহমান ওরফে জিলানী (৪৮) নামে এক যুবলীগ কর্মীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার চৌয়ারা বাজারসংলগ্ন নগরীর ধনপুর এলাকার একটি ইটভাটার সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জিল্লুর রহমান কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের চৌয়ারা চৌধুরী বাড়ির মৃত মোখলেছুর রহমান চৌধুরী মাস্টারের ছেলে। তিনি গত সিটি নির্বাচনে ঐ ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এদিকে, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ দুই পক্ষের সংঘর্ষে পণ্ড হয়ে গেছে। সমাবেশে যুবলীগের ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের পুত্র আইটি বিশেষজ্ঞ মাহাবুব রহমান রুহেল। জানা গেছে, সমাবেশে বক্তারা বক্তব্য দেওয়ার সময় টানা স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে সমর্থকদের মধ্যে চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও ধাওয়া-পালটা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় যুবলীগের নেতারা মাইকে থামতে বললেও সংঘর্ষকারীরা শান্ত হয়নি। এক পর্যায়ে মঞ্চে উপবিষ্ট অতিথিরা বিকাল সাড়ে ৪টায় সমাবেশস্থল ত্যাগ করেন।
অন্যদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিলে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশসহ ২৫ জন আহত হয়েছেন। গতকাল সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে তিন যুবককে আটক করেছে পুলিশ। জানা গেছে, জেলা পরিষদের সদস্য যুবলীগ নেতা পায়েল হোসেন মৃধার সমর্থনে রুবেলের নেতৃত্বে একটি মিছিল শহিদ মিনারের দিকে যাচ্ছিল। একই সময়ে পায়েল হোসেন মৃধার সমর্থনে আরেকটি মিছিল যুবলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন ও মাহবুবের নেতৃত্বে বের হয়। মিছিল দুটি মুখোমুখি হলে মাহবুবকে ধাক্কা মারে রুবেলের সমর্থকরা। এ নিয়ে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বাকিবতণ্ডা হয়। পরে উভয় পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে পুলিশসহ উভয় পক্ষের ২৫ জন আহত হন।
নিহত জিল্লুর নারী সংসদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আঞ্জুম সুলতানা সীমার অনুসারী বলে জানা গেছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে শহরের নজরুল অ্যাভিনিউ এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যুবলীগ কর্মী জিল্লুর রহমানের বাড়ি চৌয়ারা এলাকায় হলেও তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে শহরের কান্দিরপাড় এলাকায় ভাড়া থাকতেন। তার স্ত্রী জাহানারা বেগম সদর দক্ষিণ উপজেলার তারাপাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। মঙ্গলবার রাতে তিনি শহরের বাসায় ছিলেন এবং জিল্লুর গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। বুধবার সকালে জাহানারা বেগম এক সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলেন এবং জিল্লুর রহমান বাড়ি থেকে বের হয়ে ধনপুর এলাকার একটি ইটভাটার সামনে তাদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তার স্ত্রী ও সন্তান ঘটনাস্থলে পৌঁছার একটু আগেই তিনটি মোটরসাইকেলযোগে আসা সন্ত্রাসীরা তাকে ঘেরাও করে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এ সময় তার স্ত্রীও ঘটনাস্থলে পৌঁছে চিত্কার শুরু করলে স্থানীয়রা এগিয়ে আসতে থাকে। তখন সন্ত্রাসীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে জিল্লুরকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয় লোকজন জানান, মোটরসাইকেলযোগে আসা সন্ত্রাসীরা কয়েক মিনিটের মধ্যে এ ঘটনা ঘটিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এ কিলিং মিশনে ১০-১২ জন সন্ত্রাসী অংশ নেয় বলেও তারা জানান। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুবলীগ কর্মী জিল্লুর রহমানকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হয় বলে এলাকার লোকজন দাবি করেন। খবর পেয়ে জেলা ও থানা পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই ও ডিবি পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। কুমিল্লা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজিম-উল আহসান সাংবাদিকদের জানান, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক টিমের অভিযান চলছে। সন্ধ্যায় সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) কমল কৃষ্ণ ধর জানান, নিহতের হাতে ও পায়ে এলোপাতাড়ি ধারালো অস্ত্রের কোপের চিহ্ন রয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে নিহতের জুতা ও হাতের একটি কাটা আঙুলের অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিখোঁজের তিন দিন পর যুবকের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার
এদিকে, কুমিল্লা থেকে নিখোঁজের তিন দিন পর চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি থেকে ছিদ্দিকুর রহমান (৩৫) নামে এক যুবকের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঐ যুবক জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার কাজীপাড়া গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে ও কুমিল্লা ইপিজেডের একটি কারখানার কর্মচারী ছিলেন।