নিখিল প্রেমাষ্পদ প্রিয়তম রাসুল মুহাম্মদ (স)। কাঠফাটা চৌচির তপ্তশুষ্ক হূদয়ে যার নাম নিলেই রহমতে এলাহি বর্ষিত হয় শ্রাবণধারায়। অমানিষায় ঘেরা অন্ধকারাচ্ছন্ন হূদয়াকাশে মধ্য গগণের সূর্যালোক উদ্ভাসিত হয় যে নামের পরশে। বিশ্ব নিয়ন্তা রাব্বুল আলামিন তাকে সৃষ্টিই করেছেন আলোকময় পবিত্র সত্তা করে। মুহাম্মদ (স) নূরুন আ’লা নূর, তিনি সিরাজাম মুনির, তিনি এমন নূর যা কখনো নিভবে না, নিষ্প্রভও হবে না।
মহান স্রষ্টা আল্লাহ তাআলা ছাড়া কেউ ছিলেন না। আরশ-কুরসি-লাওহ-কলম, আকাশ-জমিন এককথায় কিছুই ছিল না। রাব্বুল আলামিন ছিলেন অতি গোপন, যার পরিচয় তখনো প্রকাশ হয়নি। নিজের রবুবিয়্যাত ও উলুহিয়্যাত সৃষ্টির সামনে প্রকাশের উদ্দেশ্যে তিনি সর্বপ্রথম একটি মাখলুক সৃষ্টি করলেন। এক বর্ণনায় এসেছে, ‘আমি ছিলাম সুপ্ত ভান্ডার, কেউ আমার পরিচয় জানত না, অতঃপর আমি চাইলাম নিজের পরিচয় প্রকাশ করব, তাই এক সত্তাকে তৈরি করলাম নিজের পরিচয় প্রকাশ করার জন্য।’ (মিরকাতুল মাফাতিহ্ শরহে মেশকাত খণ্ড-১ পৃষ্ঠা-১২৩)
এখন প্রশ্ন হলো সর্বপ্রথম সৃষ্টি কী ছিল যার দ্বারা স্বয়ং আল্লাহ নিজের পরিচয় প্রকাশ করলেন? এর জবাব আমরা রাসুলে পাক (স)-এর হাদিস থেকেই নিতে পারি। বর্ণিত আছে, রাসুল (স) যখন মেরাজ সফরে বাইতুল মুকাদ্দাসের পথে ছিলেন তখন পথ অতিক্রমের সময় তিনি তিন জনের একটি কাফেলা দেখতে পান যারা তাকে সালাম দিচ্ছেন এই বলে, ‘আপনাকে সালাম হে আউয়াল বা সূচনাকারী, আপনাকে সালাম হে পরিসমাপ্তিকারী, আপনাকে সালাম হে একত্রকারী।’ (তাফসিরে ইবনে কাসীর, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-১১) এই বর্ণনা দ্বারা যে বিষয়টি বোঝানো হয়েছে তা হলো—মুহাম্মদ সা. সৃষ্টিগত দিক থেকে মানুষের মধ্যে সর্বপ্রথম আর প্রেরণের দিক থেকে সর্বশেষ নবি।
হজরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একবার নবি করিম (স) জিবরাঈল (আ)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনার বয়স কত? জিবরাঈল (আ) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ (স) আমার বয়স কত আমি তা জানি না তবে, চতুর্থ হিজাবে একটি নক্ষত্র ৭০ হাজার বছর পর পর একবার উদিত হতো, তাকে আমি ৭২ হাজার বার দেখেছি। পেয়ারা নবি (স) বললেন, হে জিবরাঈল! আমার রবের ইজ্জতের কসম! আমিই সেই তারকা।’ (সিরাতে হালাবিয়্যা, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৪৯)। সৃষ্টির স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হলো আলোর প্রতি সবাই আকর্ষিত হওয়া। পতঙ্গ ঝাঁপিয়ে পড়ে আলোতে স্বীয় জীবনের মায়া না করেই। তাহলে যিনি সব সৃষ্টির মূল, যার আলোতে সারা জাহান আলোকিত, যিনি সব আলোর প্রাণ, তার জন্য সমগ্র সৃষ্টি দিওয়ানা হবে না কেন? সবাই তার আগমনে আনন্দিত, সৃষ্টির প্রতিটি ধূলিকণা তার জন্যে পাগলপারা কেবল ইবলিশ ও তার অনুসারী ছাড়া।
lলেখক :মুফাসিসরে কোরআন ও প্রবীণ বক্তা