ভারত-চীন উত্তেজনা আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করবে

চীন ও ভারতের মধ্যে সামনে যদি উত্তেজনা আরো বৃদ্ধি পায় তাহলে তা ইউরেশিয়া জুড়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে বিঘ্নিত করবে। গতকাল রাশিয়ার ডেপুটি চিফ অব মিশন রোমান বাবুশকিন এ সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে বলেন, পরিস্থিতি প্রতিকূলে যাওয়ার আগে উভয়েরই উচিত এ জন্য একটি সমঝোতামূলক আলোচনার পথে যাওয়া। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের

রোমান বাবুশকিন বলেন, এ ধরনের উত্তেজনা বৈশ্বিক তীব্র উত্তেজনা ও অশান্তিকে বাড়িয়ে তুলবে। আর এর প্রভাব এক সময় কম-বেশি সবার ওপরে গিয়ে পড়বে। তিনি বলেন, দুই দেশের এই সংকট অন্যান্য পক্ষ তাদের ভূ-রাজনৈতিক উদ্দেশে অপব্যবহার করতে পারে। আর এ কারণে আমরা এটা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই এ সংকট সমাধানের জন্য আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। সেক্ষেত্রে আলোচনা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। আর এর মাধ্যমে দুই দেশের সীমান্তে সত্যিকারের নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) নিয়ে যে মতবিরোধ বা দ্বন্দ্ব রয়েছে তার সমাধানের পথ বের হতে পারে। তিনি বলেন, রাশিয়া আগে থেকেই এ ব্যাপারে যে নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছে তা পরিষ্কার করেছে। কেননা দুই দেশের সঙ্গেই রাশিয়ার একটি বিশেষ কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। তাই এ ব্যাপারে আমরা স্বাধীন মত প্রকাশে বিশ্বাস করি। সেকারণেই আমরা একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রত্যাশা করছি। বিষয়টি যত শিগিগরই হবে ততই সবার জন্য মঙ্গলজনক হবে। রুশ এই কর্মকর্তা বলেন, একটি বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফরমের কাঠামোর ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার কথা সবার আগে আসে। এক্ষেত্রে সম্মিলিত আলোচনা একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। গত প্রায় ছয় মাস ধরে ভারত এবং চীন সীমান্তের লাদাখ অঞ্চলে তিক্ত উত্তেজনার মুখোমুখি হয়েছে। দুই দেশের সামরিক বাহিনীর সদস্যরা একাধিকবার সংঘাতেও জড়িয়েছে। এতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বেশ কয়েক জন সৈন্য হতাহত হয়েছে। বর্তমানে এই সংঘাতপূর্ণ অবস্থান থেকে সরে আসতে উভয় পক্ষ কাজ শুরু করেছে। গত সপ্তাহে উভয় দেশের কমান্ডার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অষ্টম বৈঠকে লাদাখের প্যাংগং হ্রদ লাগোয়া অঞ্চলে দুই দেশের সামরিক বাহিনী নিজেদের অবস্থান থেকে সরতে এবং সৈন্য কমানোর বিষয়ে আলোচনা করেছে। বৈঠকে উভয় দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়।