শীতে করোনাবিষয়ক সতর্কতা

সবাই বলছে, এই শীতে করোনার প্রকোপ বাড়তে পারে। এর জন্য বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা আছে কি না সে সম্পর্কে পাঠকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে টেলিফোন ও ইমেইলে প্রাপ্ত পাঠকের মতামত আজ প্রকাশিত হলো

শীতকালীন আবহাওয়া করোনার প্রকোপ বাড়ার জন্য নিঃসন্দেহে অনুকূল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশেষজ্ঞগণও শীতে করোনার ভয়াবহ সংক্রমণের আশঙ্কা প্রকাশ করে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের প্রতি জোর দিয়েছে। শিশু, বৃদ্ধ এবং বিশেষ করে যাদের ঠান্ডাজনিত সমস্যা রয়েছে তারা এই শীতে বিশেষ ঝুঁকির মধ্যে থাকবে। তাই  শীতের পুরোটা সময় সরকারনির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক বিশেষ সাবধানতা মেনে চলতে হবে। অন্যথায় ভ্যাকসিনবিহীন এই ক্রান্তিকালে বিভিন্ন দেশের মতো করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আমাদের জীবন ও জীবিকাকে আবার স্থবির করে দিতে পারে।

আবু ফারুক

বনরূপা পাড়া, বান্দরবান

আসছে শীতে করোনার প্রকোপ বাড়তে পারে। করোনা টেস্টের কিট সংকটের পেছনে যে প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে তার দ্রুত সমাধান করতে হবে। তা না হলে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামলানো দুষ্কর হয়ে পড়বে। দেশে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করলে করোনার মোকাবেলা করা সম্ভব।

মো. মেজবাহ উদ্দিন সেলিম

ইব্রাহিমপুর, ঢাকা

করোনা প্রকোপ বাড়ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে পরীক্ষাও। করোনা ভাইরাস মহামারি থেকে মুক্তি পেতে ভ্যাকসিনের দিকে তাকিয়ে আছে বিশ্ব। সতর্কতা অবশ্যই থাকতে হবে। দূরত্ব, স্বাস্থ্যবিধি ও মাস্ক ব্যবহার একান্ত জরুরি।

মো. খায়রুল ইসলাম (ফুল)

আরাপপুর, ঝিনাইদহ

সতর্কতার কোন বিকল্প নেই। আসন্ন শীতে আমাদের দেশে করোনার প্রকোপ বাড়তে পারে। করোনা মহামারি থেকে রক্ষা পেতে হলে পরিপূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আর জনস্বার্থে স্বাস্থ্যবিধি মানে চলতে হবে। রাষ্ট্রীয় নিয়মনীতি সবার জন্যই প্রযোজ্য। সবাইকে তা মেনে চলতে হবে। তা-না হলে দেশকে এই করোনার প্রকোপ থেকে রক্ষা করা সম্ভব নয় ।

আলহাজ মো. হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী (হিফজু)

চিনাইর, বি.বাড়িয়া

করোনার দ্বিতীয় ধাপ শুরু হতে যাচ্ছে সামনের দিনগুলোতে। এরই মধ্যে অনেক দেশে দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়ে গেছে। আগামী চার মাস আমাদের দেশে শুষ্ক আবহাওয়া থাকবে। বায়ুদূষণের ফলে শ্বাসনালি দিয়ে ফুসফুসে বিভিন্ন ধুলাবালি প্রবেশ করে। এসময় যাদের শ্বাসকষ্ট রয়েছে তাদের করোনার ঝুকি বেশি থাকবে। করোনা মোকাবেলায় মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে।

খন্দকার কামরুজ্জামান

মিরপুর, ঢাকা

করোনার দ্বিতীয় প্রভাব প্রবল আকারে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দেখা যাচ্ছে। যদিও আমাদের দেশে বর্তমানে দ্বিতীয় ধাপ প্রবল নয়, তবে শীতের তীব্রতার কারণে এর প্রভাব আমাদের দেশে বাড়তে পারে। তাই জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে পালন করার জন্য সরকারের এই মুহূর্তে উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত। তাহলে এই দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রকট থেকে হয়তো আমরা রক্ষা পাব।

মাখরাজ খান

সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ

দেশে করোনা ভাইরাস মহামারি আট মাস পার হলেও কমছে না। সংক্রমণের হার উলটো গত কয়েক দিন যাবত্ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। তাই আমরা মনে করি, শীতের প্রকোপ বাড়ার আগেই বাড়তি সতর্কতা অবশ্যই প্রয়োজন। তা- না হলে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

মো. ইফতেখার হোসাইন লিটন

হাইমচর, চর ভৈরবী

আসন্ন শীতে করোনা ভাইরাসের মহামারি বিষয়টি এখনও সবার কাছে অস্পষ্ট হয়ে আছে। শীতে করোনার প্রকোপ বাড়তে পারে বা বাড়বে- এমনটা ধারণা করা হচ্ছে। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

মো. মামুন

বংশাল, ঢাকা

আসন্ন এই শীতে করোনার প্রকোপ বাড়তে পারে। করোনার প্রকোপ বাড়ার পূর্বেই বিশেষ সতর্কতা জারি প্রয়োজন । বিশেষ করে মহল্লায় মহল্লায় মাইকিং করে সতর্কতা জারি করা একান্ত জরুরি।

শিশির

আজিমপুর, ঢাকা

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ যেভাবে বাড়ছে, তাতে ধরেই নেওয়া যায় শীতকালে এ ভাইরাসটির প্রকোপ বাড়বে। শীতকালে অন্যান্য ভাইরাস ও ফ্লু জাতীয় শ্বাসকষ্টের রোগের লক্ষণ দেখা দেয় বলে এসময় মানুষ করোনা ভাইরাস নিয়ে আরো বেশি সংবেদনশীল হয়ে ওঠতে পারে। তবে সার্বজনীনভাবে মাস্ক ব্যবহার, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, হাত ধোয়ার অভ্যাস বাড়ানো ও আইসোলেশনের মতো স্বাস্থ্যবিধির কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে এ রোগের বিস্তার অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যেতে পারে।

মোহাম্মদ শহিদউল্যা

মেরাদিয়া, ঢাকা

তীব্র শীতের প্রকোপের কারণে করোনা ভাইরাস বাড়তে পারে। এর জন্য চাই যথাযথ সতর্কতা। সচেতনতাই এই রোগের আসল প্রতিকার। সবাইকে মাস্ক ব্যবহারের পাশাপাশি দূরত্ব বজায় রাখতে হবে ও নিয়মনীতি মেনে চলতে হবে।

প্রহরী মনিরুজ্জামান

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

এয়ারপোর্ট, ঢাকা

দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আবারও বাড়ছে। আগামীতে সংক্রমণ আরো বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে- বিষয়টি সরকারি বেসরকারি সব মহল থেকেই শোনা যাচ্ছে। তাই আমরা প্রত্যাশা করছি করোনার প্রকোপ বাড়ার পূর্বেই সব মহলকে সতর্কতা ও নিয়মবিধি মেনে চলা উচিত।

আল মায়ামী

ফুলবাড়িয়া, সাভার

আসন্ন শীত মৌসুমে করোনার প্রকোপ বেড়ে যেতে পারে। শীতে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের দৃশ্যমান কোনো প্রস্তুতিই চোখে পড়েনি। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির ব্যাপারে বিভ্রান্তিও বিরাজ করছে। দেশের মানুষ জানে না, করোনার সংক্রমণ বাড়ছে নাকি কমছে। করোনাকালে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।

বিলকিছ আক্তার

সরকারি ম্যাটস

বিশ্ব আজ বিপর্যস্ত করোনা ভাইরাসে। আবার দ্বিতীয় ঢেউ আসছে। আমাদের সব সময় মনে রাখা উচিত অসাবধানতায় কেউ যেন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত না হয়। দ্বিতীয় ঢেউ আসার আগে আমাদের সঠিক পদ্ধতিতে মাস্ক ও স্যানিটাইজার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং যারা জটিল রোগে ভুগছেন তাদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে।

আনিসুজ্জামান রতন

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ,

ঢাকা

করোনা ভাইরাস মহামারিতে মৃত্যুর ভারে আতঙ্কগ্রস্ত গোটা বিশ্ববাসী। শীত মৌসুমের শুরুতে ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশেও করোনায় আক্রান্ত রোগ্্্্্্্্্্্্্্্ীর সংখ্যা বেড়েছে। করোনা প্রতিরোধ করতে হলে নিয়মিত মাস্ক পড়তে হবে, সাবান পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে, হ্যান্ড সেনিটাইজার ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি জনসমাগম ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

ফারুক আহমেদ

বাঘমারা, রাজশাহী

শীতকালে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ে। পাশাপাশি করোনার প্রকোপও বাড়তে পারে। তাই বাড়তি সচেতনতা প্রয়োজন।

সালেহা আফরিন বেবী

শিবগঞ্জ, সিলেট

শীতে ঠান্ডা জনিত রোগব্যাধি যেহেতু বাড়ে, তাই বাড়তি সচেতনতা অবশ্যই থাকতে হবে। বিশেষ করে বড় শহরগুলোতে যানবাহন বেশি চলায় ধুলাবালিও বাড়ে, তাই কর্তৃপক্ষের উচিত রাস্তাঘাটে নিয়মিত পানি ছিটানো। শীতের পোশাকের প্রতি বাড়তি যত্ন নিতে হবে। যত্রতত্র কফ, থুতু না ফেলার ব্যাপারেও সচেতন হতে  হবে।

মো. ফিরোজ আহম্মেদ

মিরপুর, ঢাকা

করোনা ভাইরাস একটি প্রাণঘাতী রোগ, এখনো আসেনি এর টিকা। শীতে করোনার প্রকোপ বাড়তে পারে এ শঙ্কায় বাড়তি সতর্কতা অব্যশই নিতে হবে। শীতে ঠান্ডা-কাশির প্রকোপ বাড়ে। গরিব ছিন্নমূল জনগোষ্ঠীকে সরকার কিংবা যার যতটুকু সামর্থ্য আছে সেই অনুপাতে শীতবস্ত্র ও শুকনা খাবার দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে।

জিয়াউল হক সরকার 

পূবাইল, গাজীপুর 

করোনার সংক্রমণ গত বছর শুরু হয়েছিল এই শীতকালেই। অর্থাত্ ডিসেম্বর মাসেই শীতপ্রধান দেশগুলোয় দ্রুত করোনা ছড়িয়ে পড়েছিল। ফলে সারা বিশ্বেই আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, শীতকালে এ রোগটির প্রাদুর্ভাব আবার বেড়ে যেতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এরই মধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, আসছে শীতে করোনা ভাইরাস মহামারি আরো মারাত্মক রূপ নিতে পারে! হাত ধোয়ার পাশাপাশি হাঁচি-কাশির সময় শিষ্টাচার রক্ষা করা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়গুলোও অব্যাহত রাখতে হবে।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

পার্বতীপুর, দিনাজপুর

করোনা ভাইরাসে সারা বিশ্ব আক্রান্ত। আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টাইন ফর্মুলার যথাযথ প্রয়োগ, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং পদ্ধতি অনুসরণ, নির্দিষ্ট সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, গণপরিবহন ও গণজমায়েতে বিশেষ সতর্কতা বজায় রাখার মাধ্যমে বহু দেশের সরকার এই মহামারি থেকে নিজেদের জনগণের সুরক্ষায় সক্ষমতা দেখিয়েছে। এখন থেকেই পুরো প্রস্তুতি নিয়ে শীত মৌসুমে করোনার সম্ভাব্য প্রকোপ থেকে আপামর জনসাধারণকে মুক্ত রাখতে যা যা করণীয় তা পালনে সরকার কোনো প্রকার কার্পণ্য বা শিথিলতা প্রদর্শন  করবে না বলে আমরা প্রত্যাশা করছি।

ভুঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী

দেশে প্রথম করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয় ৮ মার্চ। সম্প্রতি সংক্রমণের হার আগের তুলনায় কমায় অনেকেই আত্মতুষ্টিতে ভুগছে। বিশ্বের অনেক দেশে দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ ঘটেছে এবং তা প্রথম দফার চেয়েও ভয়াবহ। সুতরাং বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে পদক্ষেপ নিতে হবে। শীত মৌসুমে সাধারণত রেসপাইরেটরির রোগ বেশি লক্ষ্য করা যায়। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির রেসপাইরেটরির রোগ থাকলে তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সুতরাং কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে বাড়তি সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

মো. জিল্লুর রহমান

গেণ্ডারিয়া, ঢাকা

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে করোনায় আক্রান্ত এবং মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি ৫০ থেকে ৬০ ঊর্ধ্ব ব্যক্তিরা। শীতকালে তাদের সর্দি-হাঁচি-কাশি,শ্বাসকষ্টের সমস্যাগুলো বেড়ে যায়। আসন্ন শীতে করোনার প্রকোপ ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন চিকিত্সক ও বিশেষজ্ঞগণ। ইতিমধ্যে ইউরোপের অনেক দেশে শুরু হয়েছে দ্বিতীয়বারের মতো আক্রমণ ও লকডাউন- চীনে নতুন করে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে ব্যাপকভাবে, যুক্তরাষ্ট্রে আক্রমণের লাগাম তো  থামানোই যাচ্ছে না। এমতাবস্থায় বাংলাদেশের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতির দরকার। সে লক্ষ্যে  করোনার টেস্ট বৃদ্ধি করার পাশাপাশি প্রয়োজন স্বাস্থ্য সচেতনতা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক নির্দেশনাগুলো বিশেষ বুলেটিন আকারে প্রকাশ করা, মাঠ পর্যায়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দ্বারা মনিটরিং করা, চিকিত্সা সরঞ্জাম পর্যাপ্ত রাখা, ভেন্টিলেটরসহ অক্সিজেন সরবরাহ বৃদ্ধি করা, হাসপাতালের প্রতি জনগণের ইতিবাচক ধারণা তৈরি করা।

ডা. মর্জিনা আক্তার

গুলশান, ঢাকা