মাগুরার প্রতিভাবান যুবক শারীরিক প্রতিবন্ধী ফাহিম উল করিম আর নেই। বুধবার রাত ১১টার দিকে তিনি ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল মাত্র ২২ বছর। তিনি মাগুরার পৌর এলাকার মোল্লা পাড়ার রেজাউল করিমের ছেলে। বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন তিনি।
ফাহিম ডুচেনে মাসকিউলার পিসট্রফি পিএমডি রোগে ভুগছিলেন। মাত্র ১৪ বছর বয়সে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে চলত্শক্তি হারিয়ে ফেলেন তিনি। শরীর হয়ে যায় অবশ। কিন্তু দমে যাননি ফাহিম। নিজের চেষ্টায় বাড়িতে বসে কম্পিউটারে ফ্রিল্যান্সিং-এ আউটসোর্সিংয়ের কাজ করে মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় করতেন ফাহিম। মাগুরায় বাড়িও তৈরি করেছিলেন তিনি, পরিবারকে করেছেন সহযোগিতা। ফাহিম নিজের চেষ্টায় ঘরে বসে আউটসোর্সিংয়ের কাজ করে জীবনে সফল হয়েছিলেন।
ফাহিমের বাবা রেজাউল করিম বলেন, ‘অর্থের অভাবে তাকে উন্নত চিকিত্সার জন্য বিদেশে নেওয়া যায়নি। নিতে পারলে হয়তো সে কিছুটা সুস্থ হতো। কিন্তু সব শেষ হয়ে গেল। সে ডুচেনে মাসকিউলার ডিসথ্রফি নামে জটিল রোগে আক্রান্ত ছিল। যার কারণে অল্প বয়সেই তার শরীরের পেশি শুকিয়ে যায়। বুধবার সকালে ফাহিমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাকে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় রাতে সে মারা যায়।’
ছোটবেলা থেকে বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে ফাহিমের গোটা শরীর অচল হয়ে যায়। শুধু মাথা ও ডান হাতের দুটি আঙুল সচল ছিল। আর তা-ই কাজে লাগিয়ে দুই আঙুলের সাহায্যে ল্যাপটপ নিয়ে বিছানায় শুয়ে শুয়েই আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের পথ করে নেয় এই বিস্ময়বালক।
গত বছর ২২ সেপ্টেম্বর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক একটি সরকারি সফরে এসে ফাহিমের খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি তাকে একটি ল্যাপটপ উপহার দেন। এছাড়া তার কাজের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করেন।
শারীরিক প্রতিবন্ধিতা জয় করে নিজ পরিবার, সমাজ, দেশের জন্য বোঝা না হয়ে সম্পদে পরিণত হওয়া ফ্রিল্যান্সার ফাহিমের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর, জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম, মাগুরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামীম খানসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ।