কুমিল্লার বরুড়ায় চাঁদা আদায়ে বাধা দেওয়ায় সাদ্দাম হোসেন নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যার মামলায় মাছুম মিয়া নামে এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং অপর দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক রোজিনা খান এ আদেশ দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—বরুড়া উপজেলার মেড্ডা গ্রামের মৃত আলী মিয়ার ছেলে মাছুম মিয়া (ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ) এবং যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত একই গ্রামের মৃত মইফুল মিয়ার ছেলে হালিম মিয়া ও ছোট বারেরা গ্রামের শহিদ মিয়ার ছেলে অহিদ মিয়া। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্তদের তিন জনই পলাতক রয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, জেলার বরুড়া উপজেলার কানাইল গ্রামে বিভিন্ন সময়ে চাঁদাবাজি করত মাছুম মিয়া, হালিম মিয়া ও অহিদ মিয়া। এতে বাধা দেয় একই গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে সাদ্দাম হোসেন। এ ঘটনার জের ধরে ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর দুপুরে ঝলম বাজার থেকে বাড়ির ফেরার পথে ঝলম উত্তর বাজারে সাদ্দাম হোসেনকে গতিরোধ করে। এক পর্যায়ে গুলি করে তাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ঐদিন রাতে তিন জনকে আসামি করে বরুড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০১৪ সালের ২৯ আগস্ট এজাহারনামীয় তিন জনকেই অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এ মামলায় বৃহস্পতিবার আদালতে সাদ্দাম হত্যা মামলার রায় দেন বিচারক। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন এবং পলাতক আসামিদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট নাঈমা সুলতানা মুন্নী।