চার মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্বে ঘাটতি ২০ হাজার কোটি টাকা

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই থেকে অক্টোবর) রাজস্ব আদায়ে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য মেলেনি। আলোচ্য সময়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব আদায় কম হয়েছে ২০ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা। ৮৭ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৬৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। অবশ্য গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রাজস্ব আদায় বেড়েছে ১ দশমিক ১৪ শতাংশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। চলতি বছর করোনা ভাইরাসের বিশেষ পরিস্থিতির কারণে অতীতের মতো আয়কর মেলা হচ্ছে না। তবে কর অফিসগুলোতে মেলার পরিবেশে আয়কর রিটার্ন দাখিল ও করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (ই-টিআইএন) প্রদানের মতো সেবা দেওয়া হবে। এ বিষয়টি জানাতে ঐ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

করোনার পরিস্থিতির কারণে অর্থনৈতিক কার্যক্রম কমে যাওয়ায় তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে রাজস্ব আদায়ে। ফলে এনবিআরের নানামুখী চেষ্টায়ও রাজস্ব আদায় প্রত্যাশিত আকারে বাড়ছে না। এমন পরিস্থিতিতে চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে প্রায় ৪৮ শতাংশ। অথচ গত অর্থবছরগুলোতে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম থাকা সত্ত্বেও গত পাঁচ বছরে গড়ে রাজস্ব আদায় বেড়েছে মাত্র ১০ শতাংশ হারে।

এমন পরিস্থিতিতে চলতি অর্থবছর শেষে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব আদায় প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা কম হতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। 

সংবাদ সম্মেলনে এনবিআরের লোকবল সংকট, কর আদায় ব্যবস্থাপনাসহ সার্বিক রাজস্ব কার্যক্রমকে অটোমেশনের আওতায় আনায় প্রত্যাশিত সাফল্য না আসা, করদাতা বাড়ানোর উপায়সহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন এনবিআর চেয়ারম্যান। দীর্ঘদিন ধরে অটোমেশন নিয়ে অনেক কাজ করা হলেও এতে তেমন সাফল্য না আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অটোমেশনের নামে বাইরের কোম্পানির কাছে নির্ভরতা বেড়েছে। নিজেদের সক্ষমতা কিংবা দক্ষ লোকবল তৈরির আগেই যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে।

এনবিআরের আয়কর ব্যবস্থাকে অটোমেশনের আওতায় আনতে ২০১২ সালে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। এর মাধ্যমে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল ব্যবস্থাকে সহজ করা ছিল অন্যতম লক্ষ্য। কিন্তু দীর্ঘ আট বছরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষে দেখা গেল, তা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে।

আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে করদাতাদেরর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ঐ সময়ের পর আর রিটার্ন দাখিলের জন্য সময় বাড়ানো হবে না বলে জানিয়ে তিনি বলেন, আইনগতভাবে ৩০ তারিখের পর সময় বাড়ানোর সুযোগ নেই। এই রিটার্ন জমা দিতে না পারলে পরে জমা দিতে (জরিমানা দিয়ে) পারবেন।

রাজস্ব আদায়ে অন্তরায় হিসেবে জনবল সংকটকে অন্যতম কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেখানে জনবল বাড়ালে রাজস্ব আদায় বাড়বে, সেখানে কেন বাড়ে না। প্রস্তাব দিয়ে বসে আছি।

আয়করের আওতা বাড়াতে রাজউক, সিটি করপোরেশন, বিদ্যুত্ বিভাগসহ অন্যান্য সংস্থার কাছ থেকে তথ্য নিয়ে করদাতা শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে করদাতা খোঁজা এক ধরনের জনভোগান্তি।

সংবাদ সম্মেলনে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।