প্রচণ্ড হতাশা থেকে প্রতিবন্ধী ছেলেকে শ্বাসরোধে হত্যার পর নিজেও গলায় ফাঁস দেন ঠিকাদার খাইরুল ইসলাম সোহাগ। প্রাথমিক তদন্তে এমনটাই ধারণা করছে পুলিশ। ঠিকাদারি কাজে বড় অঙ্কের লোকসান হওয়ায় তিনি অনেক দিন ধরেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। আবার ছেলে শাহারাত ইসলাম আরিন শারীরিক-মানসিক প্রতিবন্ধী। তাকে নিয়েও ছিল দুর্ভোগ। সব মিলিয়ে মারাত্মকভাবে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন সোহাগ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার হাফিজ আল ফারুকী বলেন, বাবা-ছেলের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পাশাপাশি পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
নয়াটোলার ১৮১/ডি নম্বর ভবনের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে বুধবার দুপুরে বাবা-ছেলের ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। ঘটনার সময় সোহাগের স্ত্রী নাজমুন নাহার নুপুর বাসায় ছিলেন না। বাজার করে ফিরে তিনি ভেতর থেকে দরজা বন্ধ পান। অনেক ডেকেও স্বামী-সন্তানের সাড়া না পেয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন তিনি। পরে বিকল্প চাবি দিয়ে দরজা খুলে ঘরে ঢুকে পৃথক রুমে দুজনের ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় হাতিরঝিল থানায় ইউডি মামলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঠিকাদার ছিলেন ৫৫ বছর বয়সি খাইরুল ইসলাম সোহাগ। তবে কাজ করতে গিয়ে কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়েন তিনি। সেই ক্ষতি আর পুষিয়ে উঠতে পারেননি। এতে তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এজন্য তাকে চিকিত্সাও দিতে হয়। সেই সঙ্গে তার নানারকম শারীরিক সমস্যাও ছিল। কয়েক মাস ধরে তিনি বাসাতেই থাকতেন। উপার্জন না থাকায় তাকে অনেক টাকা ঋণ নিতে হয়। তার পরও বাসা ভাড়া বাকি পড়েছিল। আর্থিক সংকট, শারীরিক-মানসিক সমস্যা এবং প্রতিবন্ধী ছেলের ভবিষ্যত্ নিয়ে দুশ্চিন্তা তাকে সবসময় গ্রাস করে থাকত। তবে এর পাশাপাশি তাদের মৃত্যুর পেছনে সম্ভাব্য অন্যান্য কারণগুলোও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ওই ভবনের নিরাপত্তাকর্মী মোহাম্মদ হোসেন জানান, বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে নাজমুন নাহার নুপুর বাজারের ব্যাগ নিয়ে বাসায় ফেরেন। পঞ্চম তলায় গিয়ে তিনি দরজা বন্ধ পান। একপর্যায়ে পাশের ফ্ল্যাট থেকে তিনি জানালা দিয়ে ছেলের ঝুলন্ত নিথর দেহ দেখতে পান। তার চিত্কারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে যান। নিরাপত্তাকর্মী হোসেন গিয়ে পুরনো চাবি দিয়ে দরজার তালা খুলে দেন। তখন ড্রয়িং রুমে সোহাগের ঝুলন্ত দেহ পাওয়া যায়।