গার্মেন্টস এক্সেসরিজের নামে আসা সিগারেটের একটি চালান জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ। যার বাজারমূল্য প্রায় ১১ কোটি টাকা। গতকাল বৃহস্পতিবার বিপুল পরিমাণ এই সিগারেটের চালান জব্দ করা হয়।
জানা গেছে, পোশাক তৈরিতে কাপড়ের বাইরেও বিভিন্ন ধরনের এক্সেসরিজের প্রয়োজন হয়। রফতানিকৃত পোশাকের এ ধরনের এক্সেসরিজ আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউজের আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া হয়। আলোচ্য আমদানি চালানটিও বন্ড সুবিধায় আমদানি করা হয়।
শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ জানায়, গোপন সংবাদ থাকায় গোয়েন্দা বিভাগের চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের কর্মকর্তারা ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের ঐ কন্টেইনারে থাকা পণ্য খালাস স্থগিত করে। এরপর পরীক্ষা করে সেখানে এক্সেসরিজের বদলে থ্রিনটথ্রি সহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি সিগারেটের চালান পান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আমদানির অনুমতিপত্র (ইমপোর্ট পারমিট বা আইপি) জালিয়াতি করে এই পণ্য আমদানি হয়েছে। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ঢাকা ইপিজেডে হপ ইক বাংলাদেশ লিমিটেড। আর আমদানিকারকের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের চান্দু করপোরেশন।
শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বন্ডের আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধায় গার্মেন্টসের এক্সেসরিজের বদলে দামি সিগারেট চালানটি আমদানির সঙ্গে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান নাকি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান জড়িত, তা পরীক্ষা করে জানা যাবে। তবে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের যোগসাজস ছাড়া এটি সম্ভব নয়, তা পরিষ্কার।
যোগাযোগ করা হলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মুবিনুল কবীর দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যেই চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।