পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের তুলাতলা ও নিশানখালীর নিষিদ্ধ এলাকায় মাছ ধরার খবর পত্রিকায় প্রকাশের পর বনরক্ষীদের দৌঁড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। শুক্রবার বনরক্ষীরা বনের মধ্যে দুটি মাচাঘর ভেঙে দিয়েছেন। ঘটনার বিষয়ে স্টেশন কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন তলব করেছেন রেঞ্জ কর্মকর্তা।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, দৈনিক ইত্তেফাকে সংবাদ প্রকাশের পরে ধানসাগর স্টেশন কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম তৎপরতা শুরু করেন। মাছধরার ঘটনা ধামাচাপা দিতে শুক্রবার তার পক্ষের বনরক্ষীদের বনের তুলাতলা এলাকায় পাঠিয়ে দুটি মাচাঘর ভেঙে দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র ধানসাগর স্টেশন কর্মকর্তা ও বনরক্ষীদের মোটা অংকের টাকা দিয়ে বনের তুলাতলা বিল ও নিশানখালী খালে অবাধে মাছ ধরে চলেছে। বিষয়টি এলাকায় ওপেন সিক্রেট। মাছধরায় জড়িত লোকজন বেআইনিভাবে বনের মধ্যে ঘর বানিয়ে সেখানে রাত্রিযাপন ও রান্নাবান্না করে। বন সংলগ্ন শরণখোলার পশ্চিম রাজাপুর বটতলা গ্রামের কতিপয় লোক (গ্রুপে ৮/১০ জন) প্রতিদিন তুলাতলা বিলে কারেন্ট জাল দিয়ে এক থেকে দেড় মণ শিং, মাগুর ও কৈ মাছ ধরে খুলনা, ঢাকায় চালান দিচ্ছে। বন থেকে ধরা মাছ উপজেলার বাজারগুলোতেও দেদার বিক্রি হয়।
আরও পড়ুন: দুই বন্ধুর মনোমানিল্য রূপ নিলো খুনোখুনিতে
এলাকাবাসীরা জানান, বিলে মাছধরার কারণেই গত কয়েক বছরে ওই এলাকার বনে কয়েকদফা আগুন লেগেছিলো। প্রভাবশালীদের ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পায় না।
এ ব্যাপারে ধানসাগর স্টেশন কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলামের বক্তব্য নিতে মোবাইল ফোনে কয়েকবার চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।
এদিকে চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) এনামুল হক মুঠোফোনে বলেন, এ বিষয়ে ধানসাগর স্টেশন কর্মকর্তাকে বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
ইত্তেফাক/এসি