সতর্কতার মধ্যেও উত্সবের আমেজ

নেয়ামত উল্লাহ

করোনার চোখরাঙানি ছিল, তা রুখতে মাঠে ছিল পর্যাপ্ত সতর্কতাও। উপলক্ষ্য? ঢাকার মাঠে আবারও আন্তর্জাতিক ফুটবলের প্রত্যাবর্তন। সতর্কতার সুতোয় হয়তো একটু ঢিল পড়েছে, তবে প্রত্যাবর্তনকে উত্সবের আবহে বরণ করতে ভোলেননি দর্শকরা।

শুরুতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ৮ হাজার দর্শকের অনুমতি দিলেও শেষ মুহূর্তে এসে তা নেমে এসেছে ৭ হাজারে। দর্শকদের সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে ম্যাচের আগেই জায়গা নির্ধারিত করে দেওয়া হয়। জীবাণুমুক্ত করা হয় স্টেডিয়াম। অনাকাঙ্ক্ষিত করোনা-প্রাদুর্ভাব ঠেকাতেই যে ছিল এ সিদ্ধান্ত, তা বলাই বাহুল্য।

পদক্ষেপ ছিল আরো। আগেই সীমিত করে দেওয়া হয় ঢোকার পথ। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ৫, ১৩, ১৪, ১৬, ১৮, ১৯ নম্বর গেট দিয়েই কেবল দর্শকদের ঢুকতে দেওয়া হয় গতকাল শুক্রবার। গ্যালারিতে ঢোকার মুখে ছিল ডিসইনফেকশন টানেল। এর আগে স্বেচ্ছাসেবকদের কাছ থেকে তাপমাত্রা মাপতে হয়েছে সবাইকে। তাপমাত্রা ৯৯ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হওয়ার কারণে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বেশ কয় জনকে, কেউ আবার ঢুকতে পারেননি মাস্ক না পরায়; এজন্য হতাশারও অন্ত ছিল না খেলা দেখতে ব্যর্থদের। এরপর হাত আরেক দফা জীবাণুমুক্ত করে তবেই গ্যালারিতে ঢোকার অনুমতি মিলেছে উত্সাহী দর্শকদের।

বছরের শুরুর দিকে ইতালিতে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বহু গুণে বাড়িয়ে দিয়েছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আটালান্টা-ভ্যালেন্সিয়া ম্যাচ, অভিযোগ উঠেছে বহুবার। এমন কিছু এড়াতেই হয়তো এমন পদক্ষেপ ছিল আয়োজকদের।

সতর্কতার শেষ ছিল না এখানেই। দর্শকদের নির্ধারিত জায়গায় দূরত্ব বজায় রেখে বসা গ্যালারিতেও তত্পর ছিলেন স্বেচ্ছাসেবীরা। তবু সতর্কতায় কিছুটা ঢিল পড়েছে ম্যাচ শুরুর পরেই।

বাংলাদেশের ম্যাচে বরাবরই দর্শকদের ভিড় থাকে চোখে পড়ার মতো। করোনার কারণে দীর্ঘ বিরতির কারণে খেলা মাঠে বসে দেখার উত্সাহ বেড়েছে কয়েক গুণে। ফলত, মাঠে ঢোকার মুখেই ছিল বেশ কিছু দেশীয় ফুটবল সমর্থক গোষ্ঠীর সরব উপস্থিতি।

বাংলাদেশের দারুণ পারফরম্যান্সের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সমর্থকদের গর্জন বেড়েছে বই কমেনি একটুও!