আয়নাঘরের উদ্বোধনী মঞ্চায়ন
ইত্তেফাক রিপোর্ট
করোনা আতঙ্ক কাটিয়ে নিউ নরমাল লাইফে ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে নাটকপাড়া। সরব হয়ে উঠেছে শিল্পকলা একাডেমি ও মহিলা সমিতির মঞ্চ। সপ্তাহে সাত দিন নাট্য প্রদর্শনী না হলেও শুক্র ও শনিবার মঞ্চস্থ হচ্ছে নাটক। পুরোনো নাটকের পাশাপাশি মঞ্চস্থ হচ্ছে বিভিন্ন নাট্যদলের নতুন নাটক। গতকাল শুক্রবার নতুন-পুরোনো মিলিয়ে পরিবেশিত হয়েছে তিনটি নাটক। সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে রেজানুর রহমান নির্দেশিত আয়নাঘর শিরোনামের নাটকের উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হয়েছে। প্রযোজনাটি মঞ্চে এনেছে নাট্যদল এথিক। নাট্যশালার এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার দর্শকরা দেখতে পেয়েছে মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের নাটক নীলাখ্যান। অন্যদিকে বেইলি রোডের মহিলা সমিতি মিলনায়তনে পরিবেশিত হয়েছে শব্দ নাট্যচর্চা কেন্দ্রের প্রযোজনা দর্পণ সাক্ষী। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রতিটি প্রদর্শনী।
মানুষ যেখানে অবস্থান করুক না কেন শেষ পর্যন্ত পরিবারই হয় তার একমাত্র আশ্রয় স্থল। যে পরিবারে পারস্পরিক বন্ধন যত বেশি সেই পরিবারের মানুষগুলো ততটাই সুখী। এমনই এক পরিবারের গল্প উঠে এসেছে আয়নাঘর নাটকের কাহিনিতে। যে পরিবারে পারস্পরিক বন্ধন ছিল অনেক জোরালো। কিন্তু একটি ধর্ষণের ন্যক্কারজনক ঘটনাকে কেন্দ্র করে অসম্মান, স্বার্থপরতা, অবজ্ঞা আর অনিয়মের পাকচক্রে পড়ে পরিবারটি একসময় যেমন কঠিন সংকটের মুখোমুখি দাঁড়ায়। এমন ঘটনায় পরিবারটির সঙ্গে সমাজ বা রাষ্ট্রের অনেক অর্জনও ম্লান হয়ে যায়। নাট্যদল এথিকের অষ্টম প্রযোজনা আয়নাঘর। রচনার পাশাপাশি নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন রেজানুর রহমান। আয়নাঘরের উদ্বোধনী মঞ্চায়নে অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিজন ও সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সম্পাদক সাইফুল আলম। এছাড়া বক্তব্য রাখেন গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের সেক্রেটারি জেনারেল কামাল বায়োজীদ ও শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম।
আয়নাঘর নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুমনা সোমা, মাহবুবা রেজানুর, কাজী প্যারিস, রেজানুর রহমান, সূকর্ণ হাসান, মিন্টু সরদার, ইমতিয়াজ আসাদ, সবুজ রহমান, নূর সাবা, মানিক কাঞ্চন প্রমুখ। মহাকাল নাট্য সম্প্রদায় প্রযোজিত নীলাখ্যান নাটকটির ৫৪তম মঞ্চায়ন হয় শুক্রবার। কাজী নজরুল ইসলামের ‘সাপুড়ে’ আশ্রয়ে নাটকটি রচনা করেছেন আনন জামান। নির্দেশনা দিয়েছেন ইউসুফ হাসান অর্ক। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন কোনাল আলী সাথী, পলি বিশ্বাস, শাহিনুর প্রিতী, সুরেলা নাজিম, নূর আক্তার মায়া, সম্রাট, পনির, শিবলী সরকার, শাহরিয়ার হোসেন পলিন, তারেকেশ্বর তারোক, মো. আহাদ, রাসেল আহমেদ, ইকবাল চৌধুরী, স্বপ্নিল, তাজুল রনি, মনিরুল আলম কাজল, মো. শাহনেওয়াজ ও মীর জাহিদ হাসান। মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহীম মিলনায়তনে শব্দ নাট্যচর্চা কেন্দ্র প্রযোজিত দর্পণ সাক্ষী নাটকের ৩৮তম প্রদর্শনী হয়। চন্দন সেন রচিত নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন খোরশেদুল আলম। প্রযোজনাটির বিভিন্ন চরিত্রে রূপ দিয়েছেন খোরশেদ, এহসান, রুশনী, মাহমুদ, মুন্না, আল আমিন, হাসিব, আলফা, জুয়েল ও ষড়জ।