সিলেটে রায়হান হত্যা

আকবরকে পালাতে সহায়তাকারীদের গ্রেফতার দাবি মায়ের

সিলেটের রায়হান হত্যা মামলার প্রধান আসামি এসআই আকবর হোসেনকে পালাতে পরামর্শদাতা অফিসারসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব অপরাধীকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন নিহত রায়হানের মা সালমা বেগম। এদিকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আজ শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণাসহ সামগ্রিক বিষয়াদি তুলে ধরা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। এর আগে রায়হান হত্যার প্রতিবাদে ও আসামিদের ফাঁসির দাবিতে নগরীতে পৃথক মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা, মোমবাতি প্রজ্বালন ও রায়হানের মা, স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির সামনে কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে অনশন কর্মসূচি পালন করেন।অন্যদিকে, গত বৃহস্পতিবার রায়হান হত্যার বিচারে আইনি সহযোগিতার জন্য জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৃহত্তর আখালিয়া (বার হামছায়া) সংগ্রাম পরিষদ সৌজন্য সাক্ষাত্ করলে সমিতির নেতৃবৃন্দ এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সমিতির পক্ষ থেকে সিনিয়র আইনজীবীদের নিয়ে একটি প্যানেল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। রায়হানের মা সালমা বেগম বলেন, প্রধান অভিযুক্ত আকবরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আমি সেসব সিনিয়র অফিসারদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

গত ১০ অক্টোবর রাতে সিলেটের বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান আহমদ (৩৪) মারা যান।

রায়হানের পরিবারের পক্ষ থেকে এই মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে দাবি করে তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। রায়হান মৃত্যুর ২৯ দিন পর গত সোমবার কানাইঘাট উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ ইউনিয়নের ডোনা সীমান্ত থেকে বহিষ্কৃত এসআই আকবরকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয় মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই। এর আগে এ ঘটনায় এসআই আশেক-ই এলাহি, পুলিশ কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাশ ও হারুনুর রশীদকে গ্রেফতার করে পিবিআই। তাদেরকেও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই সিলেট মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি ফাঁড়িতে ধরে এনে নির্যাতনের প্রাথমিক প্রমাণ পায়। তাদের সুপারিশের ভিক্তিতে আকবরসহ তিন পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বহিষ্কার ও চার জনকে ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করা হয়। এছাড়া, এসআই আকবরকে পালাতে সহযোগিতা করায় বন্দর বাজার ফাঁড়ির টুআইসি এসআই হাসানকেও বরখাস্ত করা হয়।

এ বিষয়ে এসএমপির নবনিযুক্ত কমিশনার মো. নিশারুল আরিফ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আকবর যে বক্তব্য দিয়েছে তা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে আমলে নিয়েছে এসএমপি। এখন সে তথ্যের সঙ্গে যেসব প্রমাণ থাকা দরকার তা খোঁজা হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ সাক্ষ্য-প্রমাণ পেলে সেই কর্মকর্তা যিনিই হোন না কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।