যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত ৩ নভেম্বরের ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুললেও তার নির্বাচন কর্মকর্তারা সেই অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে জানিয়েছেন, কারচুপির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আবার অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যেও জয় পেয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেন। এদিকে শেষ পর্যন্ত বাইডেনকে অভিনন্দন জানিয়েছে চীনও। এছাড়া নিজের পরিবারের মধ্যেই পরাজয় মানা না মানার পক্ষে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। রিপাবলিকান নেতারাও ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছেন। ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘরে-বাইরে চাপে পড়েছেন। খবর সিএনএন, রয়টার্স ও ডয়চেভেলের
কারচুপির প্রমাণ পাওয়া যায়নি
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, ২৭ লাখ ভোটের তথ্য মুছে ফেলা হয়েছে। তিনি বিভিন্ন রাজ্যে ভোটে কারচুপির অভিযোগ এনে আইনি লড়াইও চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু মার্কিন প্রশাসনের সবচেয়ে উচ্চপদস্থ সাইবার নিরাপত্তা এবং নির্বাচন কর্মকর্তারা বলেছেন, দেশের ইতিহাসে এটাই ছিল সবচেয়ে নিরাপদ নির্বাচন। কর্মকর্তাদের একটি কমিটি জানিয়েছে, কোথাও ভোট চুরি, মুছে ফেলা বা পরিবর্তন করার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
চীনেরও অভিনন্দন
প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পর অবশেষে চীনের কাছ থেকে অভিনন্দন বার্তা পেলেন জো বাইডেন। গতকাল শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেছেন, আমরা আমেরিকার জনগণের পছন্দের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা জো বাইডেন এবং কমলা হ্যারিসকে অভিনন্দন জানাই। বেইজিংয়ের আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে চীনা এই কর্মকর্তা বলেন, আমরা জানি নির্বাচনের ফল যুক্তরাষ্ট্রের আইন এবং প্রক্রিয়া অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। এর আগে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে বিশ্বের যে কয়েকটি দেশ অভিনন্দন জানানো থেকে বিরত ছিল চীন তাদের মধ্যে অন্যতম।
পরিবারেও বিভক্তি
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দুই সন্তান ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র এবং এরিক ট্রাম্প চান, তার বাবা নির্বাচনে কারচুপির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। তারা এজন্য উত্সাহও দিচ্ছেন। তারা রিপাবলিকানদেরকেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছেন। কিন্তু বড় মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প এবং জামাতা জারেদ কুশনার চান মুখ রক্ষায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরাজয় স্বীকার করে নেওয়াই উত্তম।
ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছেন রিপাবলিকানরাও
অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যেও বাইডেন জয়ী হয়েছেন বলে জানা গেছে। ফলে বাইডেনের ঝুলিতে ২৯০টি ইলেকটোরাল ভোট পড়বে এবং তার জয় সম্পর্কে সংশয় প্রকাশ করার আর কোনো অবকাশ থাকবে না। পপুলার ভোটে তিনি ট্রাম্পের তুলনায় ৫২ লাখেরও বেশি সংখ্যায় এগিয়ে আছেন। আরো কয়েকটি রাজ্যে ভোটগণনা চললেও বাইডেনের জয়ের অঙ্কে কোনো পরিবর্তনের আশা কার্যত লোপ পেয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে ট্রাম্পের একগুঁয়ে মনোভাবের পক্ষে রিপাবলিকান দলের মধ্যে সমর্থনে চিড় ধরতে শুরু করছে। এখনো দলের শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে বাইডেনের জয় স্বীকার না করলেও তাদের মধ্যে কয়েক জন প্রথা অনুযায়ী বাইডেনের জন্য গোয়েন্দা সংস্থার ব্রিফিং শুরু করার পক্ষে সওয়াল করেছেন। অর্থাত্ তারা কার্যত স্বীকার করে নিচ্ছেন, তারা না মানলেও বাইডেন পরবর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করতে চলেছেন। অনেক রিপাবলিকানও মনে করছেন, আইনি লড়াইয়ে ট্রাম্পের জয়ের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
রিপাবলিকান দলের স্বীকৃতি না পেলেও বাইডেন অবিচল থেকে ক্ষমতা গ্রহণের প্রস্তুতি করে চলেছেন। প্রথা অনুযায়ী জেনারেল সার্ভিসেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নামের ফেডারেল কর্তৃপক্ষ এখনো বাইডেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জয়ী প্রার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য ধার্য বাজেট হস্তান্তর করা হয়নি। ভবিষ্যত্ বাইডেন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা হোয়াইট হাউজের চিফ অব স্টাফ রন ক্লেইন এমএসএনবিসি নেটওয়ার্ককে বলেন, ঠিক সময়ে এই অর্থ হাতে পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আগামী বছরের শুরুতে দেশে করোনা টিকা প্রদানের সরকারি পরিকল্পনা কার্যকর করতে হলে এখন থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে বলে জানান ক্লেইন।