প্রদ্বীপের আলোয় আলোকিত বরিশাল মহাশ্মশান

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী দুই দিনব্যাপী দিপাবলী উৎসব উপলক্ষ্যে প্রদ্বীপের আলোয় আলোকিত হয়েছিলো নগরীর কাউনিয়া এলাকার মহাশ্মশান। প্রিয়জনের স্মৃতির উদ্দেশ্যে দ্বীপ জ্বেলে নানা উপাচার ও ফুল দিয়ে সমাধী সাজিয়ে প্রার্থনা করে স্বজনদের। পরিবারের ছোট-বড় সবাই এসেছিলেন তাদের প্রিয়জনকে স্মরণ করতে। বাদ যাননি বৃদ্ধ ও শিশুরাও। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে মোমের আলোয় আলোকিত হয়েছিল পুরো এলাকা। 

বরিশাল মহাশ্মশান রক্ষা কমিটির সভাপতি মানিক মুখার্জি কুডু জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস কালি পূজার আগের দিন ভূত চতুর্দশী তিথিতে পূজা অর্চনা করলে মৃত ব্যক্তির আত্মা শান্তি লাভ করে। তাই স্বজনহারা ব্যক্তিরা সমাধীবেদীতে প্রদীপ জ্বেলে সৃষ্টিকর্তার কাছে হারানো স্বজনদের জন্য স্বর্গীয় সুখের প্রার্থনা করেন। 

তিনি আরও জানান, শুক্রবার সকাল ১০টার পর থেকে লগ্ন অনুযায়ী শুরু হয়ে পরদিন শনিবার কালিপূজার মধ্য দিয়ে এ উৎসবের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। তবে করোনার প্রকোপ ঠেকাতে এবার সংক্ষিপ্ত পরিসরে আয়োজন করা হয়েছে শ্মশান দিপাবলীর। এবার মাস্ক ব্যতিত কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি মহাশ্মশানে। জীবানুনাশক দুটি টানেল বসানো হয়েছে শ্মশানে প্রবেশ গেটে। সামাজিক দূরত্ব রাখার জন্য সার্বক্ষনিক মাইকিং করা হয়। নিরাপত্তার জন্য স্থাপন করা হয়েছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা।  

নগরীর পশ্চিম কাউনিয়া ও নতুন বাজার এলাকায় ৬ একর জমির উপর এ মহাশশ্মানের জন্ম বরিশাল নগরীর পত্তনের পূর্বেই। ইতিহাস থেকে জানা যায় ধর্ণাঢ্য জমিদারদের আর্থিক সহায়তায় নতুন বাজারে প্রথম মহাশ্মশান স্থাপিত হয়। পরে তা কাউনিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। পুরনো শ্মশানের অধিকাংশ সমাধি ধংস হয়ে গেলেও এখনো সেখানে ব্রা²দের ২/৩টি সমাধি রয়েছে। এ মহাশ্মশানে মৃত্যুর ৮০ বছর পর ঠাই হয়েছে মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্তের সমাধি। ২০১২ সালে ভারতের কেওড়া তলা মহাশশ্মান থেকে চিতাভস্য এনে এ মহামশশ্মানে স্থাপন করা হয়েছে। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অগ্নিপুরুষ বিল্পবী দেবেন ঘোষ, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেত্রী মনোরমা মাসিমা, শিক্ষাবিদ কালি চন্দ্র ঘোষসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সমাধি রয়েছে এ মহাশ্মশানে। নতুন পুরনো মিলিয়ে এখন ঐ মহাশশ্মানে সমাধি প্রায় ৬০ হাজার।

রিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মো. খাইরুল আলম জানান, দিপাবলী উৎসব নির্বিঘœ এবং শান্তিপূর্ন করতে সব বাহিনীর সমš^য়ে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। পোষাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোষাকধারী পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং র‌্যাব উৎসবকালীন সময়ে সার্বক্ষনিক মহাশ্মশানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলে জানিয়েছেন তিনি। 

ইত্তেফাক/কেকে