রায়হান আহমদ হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ ৪ পুলিশ সদস্য গ্রেফতার হলেও অভিযুক্তরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি না দেওয়ায় শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিহতের মা সালমা বেগম।
তিনি বলেন, ঘটনার দিন তার ছেলের পরনের টি-শার্ট ও নীল রঙ্গের প্যান্ট ছিল। কিন্তু হাসপাতালে দেখা গেছে তার পরনে লাল রংয়ের শার্ট। প্যান্টও বদলানো হয় যা তার শরীরের চেয়েও অনেক ছোট ছিল।
তিনি প্রশ্ন করে বলেন, এটা কারা করেছে? আমার ছেলের মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ এখনও দেওয়া হয়নি। মূলত নির্যাতনের সময় মূল আলামত পরনের কাপড় নষ্ট করা হয়। তিনি সেসব অপরাধীদের গ্রেফতার দাবি করেছেন। পাশাপাশি আকবরকে পালিয়ে যেতে সহায়তাকারী ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের শনাক্ত করে গ্রেফতার দাবি জানিয়ে বলেন, আমার ছেলের হত্যার সঙ্গে যারাই জড়িত তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তি দেওয়া হোক।
শনিবার নগরীর আখালিয়ার নেহারিপাড়াস্থ রায়হানের বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমনি বক্তব্য রাখেন তিনি। বৃহত্তর আখালিয়া (বারো হামছায়া) সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন হয়।
সালমা বেগম বলেন, তারা চার ঘণ্টার মধ্যেই আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে। মামলার তদন্ত নিয়ে আমি সন্দেহ পোষণ করি না। পুলিশের তৎপরতার কারণেই আমার ছেলে হত্যার মূল অভিযুক্ত পলাতক আকবর গ্রেফতার হয়। কিন্তু আমার নিরাপরাধ ছেলেকে কারা, কি জন্য মেরেছে এ বিষয়টি এখনও বেরিয়ে আসেনি। এএসআই আশেক এলাহিসহ অন্য পুলিশ সদস্যরাও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি না দেওয়ায় মামলার সঠিক বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত তিনি। মূল আসামি আকবরকে গ্রেফতার করায় পুলিশকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
একই সঙ্গে খাসিয়া সম্প্রদায়সহ সীমান্ত এলাকার লোকজনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন সালমা বেগম। তিনি সাংবাদিক ও এলাকাবাসীসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষ রায়হানের পরিবারের পক্ষে থাকায় তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান। এসময় রায়হান হত্যার পর থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া বৃহত্তর আখালিয়া (বারো হামছায়া) সংগ্রাম পরিষদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান পরিষদের আহ্বায়ক সিলেট সিটি করপোরেশনের ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরান।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আমরা রায়হান হত্যার ন্যায় বিচার প্রত্যাশী। এই মুহূর্তে আমাদের প্রত্যাশা সুষ্ঠু বিচার। যাতে অপরাধীরা পার না পায়। এই হত্যা ঘটনার তদন্তে কোনো অবহেলা থাকলে সিলেটবাসী কাউকে ক্ষমা করবে না। রায়হান হত্যার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এলাকাবাসী রাজপথ ছাড়বে না।
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, রায়হান হত্যার ঘটনায় আসামিরা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি না দিলেও প্রত্যক্ষদর্শী তিন পুলিশ সদস্য আদালতে সাক্ষী দিয়েছেন। যে কারণে এটার মূল গ্রাউন্ড মৃত্যুদণ্ড হবে, আমরা আশাবাদী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাদী পক্ষের আইনজীবী প্যানেল ব্যারিস্টার ফয়েজ আহমদ, অ্যাডভোকেট তাজ উদ্দিন আহমদ, অ্যাডভোকেট ফয়েজ উদ্দিন, সিলেট সিটি করপোরেশনের ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইলিয়াসুর রহমান ইলিয়াস, ৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জগদীশ দাস ও রায়হানের মামাতো ভাই শওকত আলী প্রমুখ।
ইত্তেফাক/জেডএইচ