দিনাজপুরে সুগন্ধি ধানের আবাদ বাড়ছে

মো. মতিউর রহমান, দিনাজপুর অফিস

ধানের জেলা হিসেবে পরিচিত দেশের উত্তরের জেলা দিনাজপুর। আমন, বোরো ও আউশসহ সব মিলিয়ে প্রতি বছর গড়ে ১৪ থেকে ১৫ লাখ টন চাল উত্পাদন হয় এ জেলায়। তবে প্রথাগত ধানের আবাদ থেকে উচ্চমূল্যের এবং সুগন্ধি ধানের আবাদে ঝুঁকছেন দিনাজপুরের কৃষকরা। কয়েক বছরে জেলায় সুগন্ধি ধানের আবাদে এসেছে বড় পরিবর্তন। এসব ধান-চালের ভালো দাম পাওয়া যায়। এসব কারণে দিনাজপুরে সুগন্ধি ধানের আবাদ সাত বছরের ব্যবধানে বেড়েছে প্রায় ১৫০ শতাংশ। যদিও চলতি বোরো মৌসুমে মোটা ধানের ভালো দাম পেয়েছে কৃষকরা। আর মোটা ধানের আবাদ কমে যাওয়ায় চলতি বোরো মৌসুমে দিনাজপুরে অর্জিত হয়নি খাদ্য সংগ্রহ অভিযান। দিনাজপুরের পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী, বিরামপুর ও চিরিরবন্দর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি সুগন্ধি ধান-চাল আবাদ ও উত্পাদন হয়।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে দিনাজপুরে সুগন্ধি ধানের আবাদ বাড়তে শুরু করেছে। ঐ অর্থবছরে জেলায় ৪১ হাজার হেক্টর জমিতে সুগন্ধি ধান আবাদ হয়। উত্পাদন হয় ৮৬ হাজার ৯৯৪ টন সুগন্ধি চাল। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবেই প্রতি বছর সুগন্ধি ধানের আবাদের আওতায় জমির পরিমাণ ও উত্পাদন বেড়েই চলেছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে জেলায় ৯০ হাজার ৪৪০ হেক্টর জমিতে সুগন্ধি ধানের আবাদ হয়েছে। আর সুগন্ধি চালের উত্পাদন ২ লাখ ১৬ হাজার টন ছাড়িয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জেলায় ১ লাখ ৬ হাজার হেক্টর জমিতে সুগন্ধি ধানের আবাদ হয়েছিল। উত্পাদন হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার টন। ২০১৯-২০ অর্থবছরে আবাদ হয় ১ লাখ ১০ হাজার হেক্টর জমিতে। আর চলতি আমন মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৯ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ হচ্ছে সুগন্ধিযুক্ত চিকন ধান।  দিনাজপুর সদর উপজেলার নশিপুর গ্রামের কৃষক হাফিজ উদ্দীন জানান, কয়েক বছর থেকেই মোটা ধান আবাদ করে দাম না থাকায় লোকসান গুনতে হয় তাকে। ফলন কম হলেও প্রতিবার চিকন ধানের দাম কিছুটা হলেও ভালো থাকে। এজন্য মোটা ধান আবাদ করে বারবার লোকসান গোনার পর ভালো দাম পাওয়ার আশায় তিনি এখন তার দুই বিঘা জমিতে বিআর-৩৪ এবং কাটারি জাতের চিকন ধান আবাদ করছেন। ঐ এলাকার নারায়ণ চন্দ্র রায়, বিধান চন্দ্র রায়সহ অন্য কৃষকরাও জানান একই কথা। বিরল উপজেলার আজিমপুর গ্রামের কৃষক দেবেশ চন্দ্র রায় জানান, আগে মুষ্টিমেয় অবস্থাপন্ন কৃষক প্রতি বছরই অল্প পরিমাণ জমিতে সুগন্ধি চাল হিসেবে কাটারি, চিনিগুঁড়া ও কালোজিরা ধানের আবাদ করতেন। এখন অন্যান্য সাধারণ ধান আবাদের পাশাপাশি ব্যাপক পরিসরে দিনাজপুরের বেশ কয়েকটি উপজেলায় আবাদ হচ্ছে সুগন্ধি ধান। সুগন্ধি ধানের আবাদের জন্য এখন কৃষকরা প্রতি মৌসুমে আলাদা করে জমি বরাদ্দ রাখছেন।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ তৌহিদুল ইকবাল জানান, দিনাজপুর জেলায় চলতি আমন মৌসুমে মোট ২ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদ করা হচ্ছে। এর মধ্যে সুগন্ধিযুক্ত চিকন ধানের আবাদ হচ্ছে ১ লাখ ৯ হাজার হেক্টর জমিতে। তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে মোটা ধানের চেয়ে সুগন্ধিযুক্ত চিকন ধান আবাদ করে কৃষকরা লাভবান হওয়ায় জেলায় বেড়েছে চিকন ধানের আবাদ। সাত বছরে দিনাজপুরে সুগন্ধিযুক্ত ধানের আবাদ বেড়েছে ১৫০ শতাংশ। তবে গত বোরো মৌসুমে মোটা ধানের ভালো দাম পেয়েছে কৃষকরা। আগামী বোরো মৌসুমে ২০ শতাংশ জমিতে মোটা ধানের আবাদ বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।