ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অনেক সড়ক
শ্যামলেন্দু পাল, নেত্রকোনা প্রতিনিধি
বালু-পাথর-কয়লাসহ নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী দুর্গাপুর উপজেলা নানা প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর। সোমেশ্বরী নদী তীরবর্তী সাদামাটির পাহাড় ও বনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে প্রতি বছর বেড়াতে আসেন বিপুলসংখ্যক পর্যটক। কিন্তু নদীর বালু ও পাথর পরিবহনের অসংখ্য ট্রাক-লড়ির অনিয়ন্ত্রিত ও বেপরোয়া যাতায়াতের কারণে দুর্গাপুর পৌর এলাকার রাস্তাঘাটসহ বিনষ্ট হচ্ছে শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি মহাসড়ক। নিয়মিত দুর্ঘটনার পাশাপাশি সড়কে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। এতে ভোগান্তি পোহাচ্ছে পৌরবাসীসহ দুর্গাপুরে বেড়াতে আসা পর্যটকরা। জনদুর্ভোগ কমাতে বালু পরিবহনে বিকল্প সড়ক নির্মাণের দীর্ঘদিনের দাবি স্থানীয়দের।
দুর্গাপুর পৌর এলাকার মোক্তার পাড়ার মোহন মিয়া, উকিলপাড়ার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, পৌর শহরের নদীর বিভিন্ন অংশে দিনরাত ২৪ ঘণ্টাই চলছে বালু-পাথর উত্তোলন ও ভেজা বালু পরিবহন। বিকল্প কোনো সড়ক না থাকায় পৌর শহরের ভেতর দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে অতিরিক্ত বালু বোঝাই হাজারো ট্রাক-লড়ি।
এ সড়কে বালু পরিবহনকারি ট্রাক চালক করিম মিয়া বলেন, বালু পরিহনকারি ট্রাক চলাচলের জন্য সরকার বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা করে দিলে যানজট কমে যাবে। দুর্গাপুর উপজেলা সুজনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নূরুল ইসলাম, শহরের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো বলতে গেলে এখন বালু ব্যবসায়ীদের দখলে! এতে সড়কে চলাচলে নাকাল পৌর এলাকার বাসিন্দারা। সড়কটির বিভিন্ন অংশে বাজারসহ অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও নেই কোনো গতিরোধক ব্যবস্থা। ফলে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। তিনি সড়কে বালু পরিবহনে নৈরাজ্য দ্রুত নিরসনে বিকল্প সড়ক নির্মাণের দাবি জানান।
দুর্গাপুর পৌরসভার মেয়র মৌলানা আব্দুস ছালাম বলেন, যেহেতু উন্নয়ন এবং নির্মাণকাজে দুর্গাপুরের বালুর কোনো বিকল্প নেই, তাই এই বালু পরিবহন করতে হবে। কিন্তু এতে করে পৌরসভা সড়কের পাশাপাশি হাইওয়ে সড়কটিও বিনষ্ট হচ্ছে। পৌরসভার বাহির এলাকা দিয়ে একটি বিকল্প সড়ক নির্মাণের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হামিদুল ইসলাম বলেছেন, সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কটি এখন ভেজা বালু পরিবহনের কারণে বিনষ্ট হওয়ার পথে। কারণ যানজটের কারণে যখন বালুবাহী ট্রাকগুলো সড়কে অবস্থান করে তখন পানি পড়ে সড়ক বিনষ্ট হচ্ছে। তাই বালু পরিবহনের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা খুব জরুরি। এদিকে সড়কটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে গতি প্রতিরোধক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ভেজা বালু পরিবহন নিয়ন্ত্রণে ওজন নির্ণয়ে স্টেশন স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান।
জেলা পুলিশ সুপার আকবর আলী মুনসী বলেন, মহাসড়কে অদক্ষ লাইসেন্সবিহীন চালক ও গতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ ও বিভিন্ন স্থানে স্পিডোমিটার স্থাপন করা হচ্ছে। নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান বলেন, জনদুর্ভোগ নিরসনে পৌর শহরে অতিরিক্ত ভেজা বালু পরিবহন নিয়ন্ত্রণ ও যত্রতত্র বালু উত্তোলন বন্ধে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন। তিনি জানান, মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে বালু ও পাথর উত্তোলনে অনিয়ম নিয়ন্ত্রণের জোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। অদক্ষ চালকরা বেপরোয়াভাবে ট্রাক লড়ি চালনার ফলেই দুর্ঘটনা ঘটছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণে অচিরেই ট্রাফিক আইন প্রয়োগ হচ্ছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।